চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-র স্থায়ী ডিলার না থাকায় তার খেসারত দিতে হচ্ছে দোহাজারী পৌরসভার সাধারণ বাসিন্দাদের। বিকল্প পদ্ধতিতে টিসিবি সুবিধা দেওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা এবং ডিলার উভয়পক্ষই।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাশিমপুর ইউনিয়নে নিজস্ব ডিলার না থাকায় দোহাজারী পৌরসভার তিনজন ডিলারকে পালাক্রমে সেখানে গিয়ে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে ডিলারকে হাশিমপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়, ওই মাসে তাঁর দোহাজারীর মূল বরাদ্দ অর্ধেক কমিয়ে বাকি দুই ডিলারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলারের এলাকায় মাত্র একদিনেই বরাদ্দ করা পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এতে নির্দিষ্ট কোনো ডিলারের স্থায়ী সুবিধা না পেয়ে প্রতি মাসে কার্ডধারীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটতে হচ্ছে- কখনো পূর্ব দোহাজারী, আবার কখনো হাছনদন্ডীর ডিলারের দ্বারে দ্বারে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের চিত্রে দেখা যায়, দোহাজারী পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিল্লাপাড়া এলাকার নির্ধারিত ডিলার ‘আরওয়া এন্টারপ্রাইজ’-কে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক প্রধানের কার্যালয় থেকে ১,৪৫৬ জনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে নির্দেশনামতে, সেখান থেকে ৬০০ জনের বরাদ্দ দোহাজারী পৌরসভার এবং ৮৫৬ জনের বরাদ্দ হাশিমপুর ইউনিয়নের কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়।দোহাজারীর বরাদ্দকৃত পণ্য বিক্রি মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় শত শত টিসিবি কার্ডধারী পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। ডিলারের ‘পণ্য শেষ’ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক কার্ডধারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ভুক্তভোগী ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, আগে নিজ এলাকার কাছের দোকান থেকে সহজে পণ্য কেনা গেলেও এখন বহু দূরবর্তী হাছনদন্ডী এলাকার ডিলারদের কাছে যেতে বলা হচ্ছে। এতে আসা-যাওয়ায় প্রায় ২০০ টাকা বাড়তি যাতায়াত খরচ গুণতে হচ্ছে এবং দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপচয় হচ্ছে। ফলে সরকারের সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।
পৌরসভার বাসিন্দাদের প্রশ্ন- হাশিমপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক জটিলতা ও ডিলার সংকটের খেসারত দোহাজারীর মানুষ কেন দেবে? কেন দ্রুত হাশিমপুরে স্বতন্ত্র ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না?
এ বিষয়ে আরওয়া এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মো. শাহ্ আলম রুবেল বলেন, “হাশিমপুরে স্থায়ী ডিলার না থাকায় আমাদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দোহাজারীর জন্য বরাদ্দ করা ৬০০ জনের পণ্য দুই দিনেই বিক্রি হয়ে গেছে। টিসিবি কার্ড স্ক্যান ছাড়া পণ্য বিক্রির সুযোগ নেই, তাই পণ্য না পাওয়া কার্ডধারীদের হাছনদন্ডীর ডিলারের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।”
এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে হাশিমপুর ইউনিয়নে দ্রুত পৃথক ও স্থায়ী টিসিবি ডিলার নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি দোহাজারীর তিনজন ডিলারকে আগের নিয়মে সুষম বরাদ্দের মাধ্যমে সেবা প্রদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে টিসিবি ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে টিসিবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান মিসকাতুল আলম বলেন, “হাশিমপুর ইউনিয়নে ডিলার না থাকায় ইউএনও অফিস থেকে ডিলারদের মধ্যে ভাগ করে ভাগ অনুযায়ী বিতরণ করা হয়।”
হাশিমপুর ইউনিয়নে কবে নাগাদ ডিলার নিয়োগ করা হবে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সেটা হেড অফিস বলতে পারবে।”