হাটহাজারীতে ফসলি জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

ধানের চারা তখন সবে বড় হতে শুরু করেছে। কয়েক মাসের শ্রম আর খরচের পর ফলনের অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকরা। কিন্তু সেই ফসলি জমিতেই হঠাৎ বালু ফেলে তৈরি করা হলো রাস্তা। শুধু ফসল নষ্টই নয়, জমিতে ছড়িয়ে রাখা ভাঙা কাঁচের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে বর্গাচাষি আবদুর রহিমের পা। কাটা পায়ের ঘা এখনো শুকায়নি, তবু জীবিকার তাগিদে কৃষিকাজে ফিরতে হয়েছে তাকে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নাথপাড়ায় বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জমির মালিক মো. ইসমাইলের দুই পুত্রবধূ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী জানান, জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যেই চাষকৃত ফসলি জমিতে বালু ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বর্গাচাষ করে আসা কৃষক আবদুর রহিমসহ সংশ্লিষ্ট কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আবদুর রহিম বলেন, ভেলোয়ারপাড়ার মো. ইসমাইলের কাছ থেকে তিনি জমিটি বর্গা নিয়ে বহু বছর ধরে চাষ করে আসছেন। প্রতিবছর জমির খাজনা বাবদ ইসমাইলকে ধান দিয়ে আসছেন। তার অভিযোগ, তাকে কোনো ধরনের পূর্বে নিষেধ না দিয়েই এক পক্ষ এসে তার চাষকৃত ফসলি জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় সোনা নাথ গং জমির মালিকানা দাবি করে ওই জমিতে ভাঙা কাঁচের বোতল ফেলত। জমিতে কাজ করার সময় ভাঙা কাঁচ পায়ে ঢুকে তার পা ক্ষতবিক্ষত হয়। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না।

কৃষাণি রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ওই জমিতে চাষ করে আসছেন। অনেক কষ্টে লাগানো ধানের চারা বড় হওয়ার পরই তা নষ্ট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এই জমিতে চাষ করতে তার প্রায় ৫৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গরুর দুধ বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে জমিতে সার দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রোকেয়া বেগমের অভিযোগ, চাষকৃত ফসল নষ্ট হতে দেখে তিনি চিৎকার করে কান্না করলেও তার কথা কেউ শোনেনি। পরে ফসলি জমির ওপর দিয়েই রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নজির আহমেদ গংয়ের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া যায়। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। একই জায়গা নিয়ে আজও উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলার অভিযোগ এসেছে। তদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে।

হাটহাজারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমান বলেন, কৃষকের ফসল নষ্ট করে রাস্তা নির্মাণ করা উচিত হয়নি। জায়গাটি ব্যক্তিগত হলেও অভিযোগ পাওয়ায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন