শীত নিয়ে লোকমুখে প্রচলিত জনপ্রিয় উক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো “পৌষের শীত মোষের গায়, মাঘের শীতে বাঘ পালায়।” হাড় কাঁপানো কনকনে এই শীতের রাতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে নেই। গরম কাপড় জড়িয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন সামর্থ্যবানরা। কিন্তু চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতের তীব্রতায় কাঁপছে তারা। বিশেষ করে, বয়োজ্যেষ্ঠ ও শিশুরা চরম বিপাকে পড়েছে। হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে গরম ও উষ্ণ শীতবস্ত্রের জন্য হাহাকার করে এসব শীতার্তরা।
এমতাবস্থায় দরিদ্র পরিবারের অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে একটু উষ্ণতা প্রদানের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে নিজে ঘুরে ঘুরে দুস্থ ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. রাজিব হোসেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে দোহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের হতদরিদ্র নারী-পুরুষদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। কম্বল বিতরণকালে অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের শীতকালীন দুর্ভোগের কথা শোনেন তিনি।
কম্বল বিতরণকালে তাঁর সাথে ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ঝন্টু বিকাশ চাকমা।
প্রকৃত দুঃস্থদের হাতে কম্বল বিতরণ করতে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে ইউএনও রাজিব হোসেন বলেন, “ডেকে এনে দিলে যার প্রয়োজন সেও হাত বাড়ায়, যার প্রয়োজন নেই সেও হাত বাড়ায়। কারো মাধ্যমে দিলে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আসে অনেক সময়। তাছাড়া যারা প্রকৃত দুঃস্থ, যাদের কম্বল প্রয়োজন তাঁদের অনেকেই দিনের বেলায় মাঠে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। রাতে সকলকে ঘরে পাওয়া যায়। তাছাড়া মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যাগুলো শুনতে পাচ্ছি। সেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিতে পারছি। কেবল দায় এড়ানোর জন্য নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অসহায় শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”