চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভায় জাল দলিল সৃজনকারী ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী পলাশ, ফিরোজ ও সুমনকে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী এক পরিবার। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে পৌরসভার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডস্থ পালপাড়ায় এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহ আলমের ছেলে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইয়াছিন।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইয়াছিন নিজ পরিবারের দীর্ঘদিনের জমির মালিকানা ও জালিয়াতচক্রের প্রতারণার বিবরণ তুলে ধরে বলেন, তার দাদা মরহুম জহুর আহাম্মদ ১৯৭৮/১৯৭৯/১৯৮০ সালে ৪টি দলিল মূলে উত্তর রাঙ্গামাটিয়া মৌজার জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ইয়াছিনসহ পরিবারের সদস্যরা উক্ত জমি সানাউল করিম গং-এর নিকট বিক্রি করেন। কিন্তু স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্র মামুন অর রশিদ (পলাশ), মাসুদ অর রশিদ (ফিরোজ) ও মাবুদ অর রশিদ (সুমন) জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একটি জাল দলিল সৃজন করে। যার দলিল নং: ১২০২১, তারিখ: ২১/১১/১৯৭৯ ইং। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এ দলিলকে জাল দলিল হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
ইয়াছিন অভিযোগ করেন, এ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষের জমি জাল দলিল তৈরি করে আত্মসাত করে আসছে এবং অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছে। এদের সহযোগী হিসেবে লুঙ্গী মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ের করা সিআর মামলা নং ৩৪৬/২০২৫–এ পলাশ, ফিরোজ ও সুমন বর্তমানে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী। ইয়াছিন দাবি করেন, সম্পত্তি হস্তান্তর করার পরও এ চক্র তাকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জমির খরিদা মালিক সানাউল করিম বলেন, অনেকদিন ধরে এরা বিএনপি – জামাতের ট্যাগ লাগিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। আমরা কোনো দলের ট্যাগ নিয়ে আসিনি, আমরা বৈধভাবে জায়গা ক্রয় করেছি। উল্টো এরা জোরজবরদস্তি করে জায়গা দখল করতে চায়। তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জাল দলিল সৃজনকারী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইয়াছিনের মা হাসিনা আক্তার, চাচী মমতাজ বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।