চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বৌদ্ধদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব “দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব” রোববার (২ নভেম্বর) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজানগর সাতঘরিয়া পাড়া শান্তিকুঞ্জ বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আয়োজিত এই মহতী পুণ্যানুষ্ঠানে ভিক্ষুসংঘ, দায়ক-দায়িকাবৃন্দ, অতিথি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অসংখ্য ভক্তবৃন্দ অংশ নেন। শুভ্রতার প্রতীক এই ঐতিহ্যময় উৎসবে ধর্মীয় অনুশাসন, মঙ্গলাচরণ, ধর্মদেশনা ও সাংস্কৃতিক পর্বে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র বিহার প্রাঙ্গণ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া সংঘরাজ ভিক্ষু সমিতির সভাপতি শাসনরত্ন ভদন্ত ধর্মসেন মহাস্থবির, আর প্রধান সদ্ধর্মদেশক হিসেবে সদ্ধর্মদেশনা প্রদান করেন কাউখালী উপজেলার পোয়াপাড়া শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্ঞানানন্দ মহাস্থবির।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন সরফভাটা পাট্টালীকুল সার্বজনীন শ্মশান বিহারের অধ্যক্ষ ড. প্রিয়ানন্দ মহাস্থবির, বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত দীপানন্দ মহাস্থবির, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক ইউছুপ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী, যুবদল নেতা এবিএম সাইফুদ্দিন, খোরশেদ আলম, ছাত্রনেতা রেজাউল করিম, জিয়া মঞ্চ নেতা কাজী মহিউদ্দিন, জসিম উদ্দিন লিটন, শহিদুল ইসলাম ও ফরিদ প্রমুখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, কঠিন চীবর দানোৎসব বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও দানের এক উজ্জ্বল প্রতীক। এটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং মানবিকতা ও মৈত্রীর এক অনন্য অনুশীলন।
অনুষ্ঠানের সূচনায় অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলাচরণ ও উদ্বোধনী সংগীত, পরে পঞ্চশীল প্রার্থনা, ধর্মালোচনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। বিভিন্ন পর্বে সঞ্চালনা করেন ভদন্ত প্রজ্ঞাসেন ভিক্ষু, অংকিতা বড়ুয়া ও নবনিতা বড়ুয়া, এবং ভদন্ত দীপানন্দ স্থবির।
ধর্মালোচনায় অংশ নেন ভদন্ত উত্তমানন্দ স্থবির, ভদন্ত ধর্মমিত্র স্থবির, ভদন্ত সত্যানন্দ স্থবির, ভদন্ত অতুলানন্দ স্থবির প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক ক্লিনটন বড়ুয়া ও হৃদয় বড়ুয়া, উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়ুয়া-সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে কর্মসূচি সফল করতে ভূমিকা রাখেন।
সন্ধ্যায় “বুদ্ধ বাণী” পাঠ ও ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে। বুদ্ধের বাণী— “সবকিছুর জন্য মনই আসল, আনন্দ হলো বিশুদ্ধ মনের সহচর”— দিয়ে অনুষ্ঠানের সার্বিক মঙ্গল কামনা করা হয়।
বিহারাধ্যক্ষ ও রাজানগর সাতঘরিয়া পাড়া শান্তিকুঞ্জ বৌদ্ধ বিহারের দায়ক-দায়িকাবৃন্দ জানান, প্রতি বছর এই দানোৎসব স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য, ঐক্য ও শান্তির বার্তা বয়ে আনে।