তোপের মুখে স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছেন ফটিকছড়িফ শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমেল কদর

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঘুষ ও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আলোচনায় আসা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমেল কদর শেষ পর্যন্ত তোপের মুখে স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্প্রতি তাকে পুনরায় ফটিকছড়িতে দায়িত্ব দেওয়ায় শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। শিক্ষকরা তার উপস্থিতিতে অফিস কার্যক্রম বর্জনেরও ইঙ্গিত দেন।

এই প্রেক্ষাপটে ২৬শে অক্টোবর (রোববার) বিকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আজিমেল কদর জানান, শিক্ষকদের নিয়েই আমার কাজ করতে হয়। সকল কাজেই তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেই শিক্ষকরাই যখন চাচ্ছেন না, তখন আমি এখানে থাকব না, চলে যাব। আমার পরিবারও চায় না আমি তোপের মুখে এখানে থাকি। শিক্ষকদের বলেছি, আমার এখানকার দেনা-পাওনা গুলো শেষ করে কিছুদিনের মধ্যেই আমি চলে যাব। কিন্তু তারা যখন তাও চাচ্ছে না, তাই আমি আজ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে একটু আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি – আমি আর এখানে থাকব না।

তিনি আরও বলেন, আমার চাকরির বয়স বেশি দিন নাই, তাই চেয়েছিলাম চাকরির শেষ বয়সটা এখানেই কাটিয়ে দেবো। কিন্তু যাদের নিয়ে আমি কাজ করব, সেই শিক্ষকরাই যেহেতু আমাকে চাচ্ছেন না, সেহেতু আমি থাকব না। আমি আজ ছুটি নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি, এরপর ফিরে এসে বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করব।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাকে পুনরায় ফটিকছড়ি উপজেলায় দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমাজ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে তাকে অন্যত্র বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষক নেতা রহিমা বেগম বলেন,আমরা কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, কিন্তু শিক্ষা অফিসকে সবার আস্থার জায়গা বানাতে হলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের এখানে না রাখাই উত্তম। আমরা তাকে স্ব-সম্মানে চলে যেতে অনুরোধ জানিয়েছি। তার এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম তিনি অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেহেতু শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তার দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাই এত তোপের মুখে থাকা অবস্থায় কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। আমার মতে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তার অন্যত্র চলে যাওয়া যৌক্তিক হবে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে বেড়াজালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার কাছ থেকে বদলির বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের সময় দুদকের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন আজিমেল কদর। ২০২০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার শেষে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত তাঁকে ২ বছর ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন