দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমের অধীনে সরকার সুলভ মূল্যে আটা বিক্রি করছে, যার দাম প্রতি কেজি ২৪ টাকা।
গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তুকি মূল্যে আটা বিক্রি শুরু হয়েছে। উপজেলার দুইটি পৌরসভার মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির চন্দনাইশ পৌরসভায় ছয় জন এবং ‘খ’ শ্রেণির দোহাজারী পৌরসভায় পাঁচ জন ডিলার রয়েছেন।
নির্ধারিত দিনে কাক ডাকা ভোরের আলো ফোটার আগেই ওএমএস আটা বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়ানোর প্রতিযোগিতা লেগে যায়। স্বল্প মূল্যে আটা কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন বৃদ্ধা নারী, পুরুষ, গৃহবধু থেকে শুরু করে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা। কাজ বাদ দিয়ে আটা কিনতে আসা মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই আটা না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। নিত্যদিনের অমানবিক এই ঘটনায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ চোখে পানি নিয়ে যাবার সময় তা দেখে সাধারণ মানুষরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন।
দোহাজারী পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডস্থ কিল্লাপাড়া এলাকার ষাটোর্ধ মো. মুছা বলেন, মানুষের ভিড়ের কারণে পরপর কয়েক দিন লাইনে দাঁড়িয়েও আটা কিনতে পারিনি। তাই আজ (রোববার) ভোরে এসেই লাইনের শুরুর দিকে জায়গা করে নিয়েছি। জানিনা শেষ পর্যন্ত আটা পাবো কিনা?
রায়জোয়ারা এলাকার বিধবা করিমুন্নেছা বলেন, আসা-যাওয়ায় ৪০ টাকা রিকশা ভাড়া খরচ করে স্বল্প মূল্য আটা কিনতে আসি। কোন দিন পাই, আবার কোন দিন পাইনা। খালি হাতেই চলে যাই।
বরাদ্দ ও বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ালে মানুষের এই দুর্দশা কমবে উল্লেখ করে কয়েকজন ডিলার জানান, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন দুই জন ডিলার আটা বিক্রি করতে পারবে। একজন ডিলারের জন্য বরাদ্দ একটন। পাঁচশ কেজি করে ভাগ করে সপ্তাহে দুই দিন বিক্রি করা হয়। প্রতিকেজি আটার ক্রয় মূল্য একুশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা আর বিক্রয় মূল্য চব্বিশ টাকা। একজন উপকারভোগী সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি আটা কিনতে পারেন। সে হিসেবে একজন ডিলারের কাছ থেকে একশত জন মানুষ আটা কিনতে পারেন। একজন ডিলার সপ্তাহে দুইদিন আটা বিক্রি করতে পারে। সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে। তবে ঘন্টা না পেরুতেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়।
দোহাজারী পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দোহাজারী, বেগম বাজার এলাকার ওএমএস ডিলার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী সপ্তাহে দুই দিন ১০০ জন করে মোট ২০০ জনের কাছে আটা বিক্রি করতে পারি। কিন্তু লাইনে থাকেন চার-পাঁচ গুণ বেশি মানুষ। এ কারণে অধিকাংশ মানুষ খালি হাতে ফিরে যান। আমরা বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য আবেদন জানিয়েছি।
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ রিয়াদ কামাল রনি বলেন, “সরকারী ভাবে এখন যা বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে তাই দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদা বিবেচনায় বরাদ্দ ও বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অফিসিয়ালি জানিয়েছি। আশা করি বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”