শিশুদের জিম্মি ও নারী সদস্যদের ধর্ষণের হুমকি দিয়ে ২ প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

পরিবারের শিশু সদস্যদের জিম্মি ও নারীদের ধর্ষণের হুমকি দিয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক রাতে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

এসময় ডাকাত দল নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, কম্বল ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত দেড়টায় ও ভোর ৪ টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী মান্নান মিয়া ও সৌদি আরব প্রবাসী মানিক মিয়ার বাড়িতে এই পৃথক ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে ডাকাত দল হানা দেয় হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মান্নান মিয়ার বাড়িতে। দোতলা বাড়ির নিচ তলায় বাড়ি মালিক মান্নান মিয়ার স্ত্রী রাশেদা আক্তার ও তার নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে সাফায়াতকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে রেখে ঘরে থাকা দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এসময় টাকা দিতে দেরি হওয়ায় রাশেদা আক্তারকে ধর্ষণের হুমকি দেয় ডাকাতরা। পরে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় উঠে ভাড়াটিয়া আসমা খাতুনের ষ্টিলের আলমিরা ভেঙে ফেলে। এছাড়া রাজিয়া সুলতানার ঘরের ছেলের জমানো মাটির ব্যাংক ভেঙে প্রায় ৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

একইদিন ভোর ৪ টার দিকে ডাকাত দল গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মানিক মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। এসময় ঘরে ছিল মানিক মিয়ার শ্বশুর মনির আহমদ, তার স্ত্রী খালেদা আক্তার ও খালেদার দুই ছেলে ও মেয়ে। বিশেষ ধরনের শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মানিক মিয়ার শ্বশুর মনির আহমেদের হাত-পা বেঁধে ফেলে ডাকাতরা। পরে তার দুই শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি ও স্ত্রী খালেদা আক্তারকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৭ টি কম্বল ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ডাকাতরা।

ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী মান্নান মিয়ার স্ত্রী রাশেদা আক্তার বলেন, ‘বুধবার রাত দেড়টার দিকে হাফপ্যান্ট ও মুখোশ পরিহিত ৮ জন ডাকাত রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইলফোনসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। এসময় টাকা দিতে দেরি হওযায় আমার ছেলেকে হত্যার হুমকি ও আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেয়।’

সৌদি আরব প্রবাসী মানিক মিয়ার শ্বশুর মনির আহমেদ বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই প্রবাসে থাকায় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে আমিসহ থাকি, তাকে দেখভাল করি। বুধবার ভোররাত চারটার দিকে ঘরের দরজা ভেঙে ৮-১০ জন ডাকাত ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে আমাকে বেঁধে মেয়েকে জিম্মি করে ধর্ষণের হুমকি ও দুই নাতি-নাতনীকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘরে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা, সাতটি কম্বল ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে ডাকাতরা। পরে ডাকাত দল একটি শাবল ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।’

জোরারগঞ্জ থানার ওসি এম আব্দুল হালিম বলেন, ‘বুধবার রাতে হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগর গ্রামের এক বাড়িতে রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে আরেক বাড়িতে দরজা ভেঙে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মধ্যম আজমনগর গ্রামটি ফেনী নদীর পাড়ে হওয়ায় নদীর উত্তর পাশের ছাগলনাইয়া উপজেলার সমিতির বাজার এলাকা থেকে শেষ রাতে ডাকাত দল এখানে এসে হানা দেয় বলে ধারণা করছি। ডাকাতি শেষে আবার নদী পার হয়ে ওপারে চলে যায় তারা। এটি মাথায় রেখেই এখন আমরা অভিযান চালাবো।’