লোহাগাড়ায় ১ বছরে ৩১ বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুরি হচ্ছে একের পর এক বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার।

গত ১২ মাসে লোহাগাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চুরি হয়েছে ৩১টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না ট্রান্সফরমার চুরি। এতে গ্রাহকরা নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, লোহাগাড়া জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত উপজেলা বিভিন্ন এলাাক থেকে ৩১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ২৫ কেভিএ ৩টি, ১৫ কেভিএ ১টি, ১০ কেভিএ ১৪টি ও ৫ কেভিএ’র ১৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার রয়েছে।

সর্বশেষ ১৫ আগস্ট রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের বার আউলিয়া কলেজের সামনে থেকে ৫ কেভিএ’র একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। পদুয়া ইউনিয়ন থেকে সর্বোচ্চ ৫টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

এ পর্যন্ত চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার পুনরায় স্থাপন করতে গ্রাহককে নতুন ট্রান্সফরমারের অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করতে হয়। পুনরায় চুরি হলে গ্রাহকদের ট্রান্সফরমারের মূল্য পুরোটাই দিতে হয়। ট্রান্সফরমার চুরি হলে মূল্য পরিশোধের পরও নতুন করে ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনে এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এ সময়টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় গ্রাহকদের।

স্থানীয়রা জানান, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি সাধারন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এর পেছনে পল্লী বিদ্যুতের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত থাকতে পারে।

পদুয়া এলাকার ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, পদুয়া ইউনিয়ন থেকে গত ১২ মাসে ৫টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি হলে বিদুৎবিহীন থাকে এলাকা। ফলে এলাকার রাইচমিলসহ বিভিন্ন ধরণের কলকারখানা বন্ধ রাখতে হয়। এছাড়া এখানকার কৃষির অনেকাংশ সেচনির্ভর হওয়ায় ট্রান্সফরমার চুরির কারণে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। নিজেদের টাকা দিয়ে বারবার ট্রান্সফরমারের মূল্য পরিশোধ করছেন। এতে তাঁদের কৃষি পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, –  বৈদ্যুতিক ট্্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে এলাকার ও বাইরের সংঘবদ্ধ, অভিজ্ঞ একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের পক্ষে ট্রান্সফরমার চুরি করা সম্ভব নয়। এব্যাপারে এলাকায় জনসচেতনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আরো তৎপর হওয়া দরকার।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ লোহাগাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেও  ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। তবে ট্রান্সফরমার চুরির ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারী জড়িত থাকার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আরিফুর রহমান বলেন,  ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন মামলা দায়ের করেননি। মামলা দায়ের করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।