চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রেমিকের সাথে বিয়ে হওয়ার পর চার মাস অতিক্রম না হতেই এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারই বাবার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে। শুক্রবার বিকাল চারটার সময় উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপথ ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ চিড়িংঘাটা এলাকায় এঘটনা ঘটে।
নিহত সালিমা সুলতানা (১৮) ওই এলাকার কামাল উদ্দিনের মেয়ে।
বিয়ের পর থেকে ওই তরুণী বাবার বাড়িতেই অবস্থান করতেন। মরদেহ উদ্ধারের আগে স্বামী-স্ত্রী একই কক্ষে ছিলেন বলে দাবি নিহতের পরিবারের। ঘটনার পর থেকে স্বামী সাইফুল ইসলাম (২০) পলাতক রয়েছেন। সে একই এলাকার লোকমান গণির ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি, সালিমা সুলতানা ও সাইফুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক জানাজানির পর বিগত ঈদুল আযহার দশ দিন আগে আকদ এবং ছয় লাখ টাকা দেনমোহরে কাবিনের মাধ্যমে উভয় পরিবারের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। ছেলের পরিবারের দাবি অনুযায়ী তিন লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও সালিমা সুলতানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্বশুড় বাড়িতে তুলে না নিয়ে বিয়ে ভেঙে দেয়ার জন্য নানা তালবাহানা করছিলো তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন।
নিহতের মা খাইরুন্নিছা জানান, সালিমা সুলতানার স্বামী সাইফুল ইসলাম স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাতে কয়েকদিন পর পর শ্বশুর বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর সাইফুল শ্বশুর বাড়িতে এসে স্ত্রীর শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে দরজা-জানালা বন্ধ করে দীর্ঘ এক ঘন্টা অতিবাহিত করার পর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এর পর সালিমা সুলতানাকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে সালিমা সুলতানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয় তার মা খাইরুন্নিছা। তার চিৎকার শুনে নিহতের চাচা মিজান এসে রশি কেটে নিচে নামিয়ে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ঊর্মি চক্রবর্তী সালিমা সুলতানাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এবিষয়ে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, “এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দোহাজারী হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে নিহতের পরিবারের কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য নেওয়া হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এজাহার পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”