চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় হামলা করে মৎস্য খামার দখল চেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় শতাধিক সদস্য। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের মুহুরী সেচ প্রকল্পের বাঁধের উপর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী জসিম উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন ও মহিলা সদস্য রোজিনা আক্তার, বিবি কুলসুম বলেন, আমরা ৩ প্রজন্ম ধরে ওচমানপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশখালী মৌজার সরকারি খাস কবলার ১ নম্বর সিটের পরিত্যক্ত অনুর্বর জংলা ভূমি পরিষ্কার করে ২০০২ সাল থেকে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। ভূমিহীন ৬০টি পরিবারকে তৎকালীন ৪ দলীয় ঐক্যজোট সরকারের মিরসরাইয়ের বিএনপির এমপি এমএ জিন্নাহ এই ঘর তৈরিতে সহযোগিতা করেন। ৬০টি পরিবারের কর্মসংস্থানের জন্য অস্থায়ী আবাসস্থলের অদূরে ১৪ একর পরিত্যক্ত খাস জমিতে নিজেদের অর্থ ও শ্রমের বিনিময়ে একটি মৎস্য প্রকল্প প্রস্তুত করে মাছ চাষ করে অর্জিত অর্থ দিয়ে আমরা সমানভাবে উপকৃত হয়ে আসছি। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ভোল্টার জসীম ও কাওছার মৎস্য খামারটি বারবার দখলের চেষ্টা করেন। খামারটি দখল করতে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসীরা রাতের বেলা প্রকল্পের মধ্যে বিষ ঢেলে দিয়ে বারবার মাছ হত্যা করে। ফলে গত কয়েক বছর উক্ত প্রকল্পে মাছ চাষ করা সম্ভব হয়নি।
গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলে পুনরায় আমরা প্রকল্পটিতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৪০ মন বিভিন্ন কার্প জাতীয় ও তেলাপিয়ার পোনা অবমুক্ত করি। কিন্তু আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আবারও প্রকল্পটিতে বিষ ঢেলে মাছ হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে উপকারভোগী পরিবারের জসিম উদ্দিন নামের একজনের উপর হামলা করে আহত করেছে। নিজেরা হামলা করে আবার আমাদের ১৩ জনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। দিদার নামে আমাদের এক সদস্যকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা আওয়ামী সন্ত্রাসী ভোল্টার জসীম ও কাওছারের বিচার চাই। মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবীতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি স্মারকলিপি দিবেন বলে জানান।