চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বড়হাতিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (২৩ ) নামে এক যুবককে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। সে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের আদর্শ পাড়ার সিরাজুল ইসলামের পুত্র।
শনিবার (১২ জুলাই) দিনগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার বড়হাতিয়ার মনুফকিরহাট এলাকা থেকে চাঁদাবাজির সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময়, দেশীয় তৈরি একটি এলজি একনলা বন্দুক, তিন রাউন্ড কার্তুজ ও ৩টি দেশীয় তৈরি দা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আবদুল্লাহ স্থানীয় “তৌহিদ বাহিনী” র সক্রিয় সদস্য। সে চাঁদাবাজির জন্য বড়হাতিয়া মনুফকির হাটে আসার গোপন সংবাদ পায়। ওই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে অবস্থান নেয়। এসময় আবদুল্লাহকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সে জানায় মনুফকির হাটের পশ্চিম পাশে
একটি করাতকলের সামনে খালি জায়গায় গাছের গুড়ির পাশে তার অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। এরপর ওই করাতমিলের সামনে খালি জায়গায় রাখা গাছের গুড়ির পাশে ঝোপঝাড়ে রাখা একটি একনলা বন্দুক , তিনটি কার্তুজ ও ৩টি দা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বড়হাতিয়া এলাকায় ‘তৌহিদ ‘বাহিনী’র প্রায় ৩০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এ পর্যন্ত দুই জন যৌথ বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। এই বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদাবাজি, ডাকাতি করে আসছে। কেউ চাঁদা না দিলে তাকে হুমকি, এমনকি অপহরণের শিকার হতে হচ্ছে। বড়হাতিয়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায়
আত্মগোপনে থেকে সমতলে এসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে থাকে।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) আরিফুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত আবদুল্লাহ বড়হাতিয়ার ‘তৌহিদ বাহিনী’ র ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সময়ে দেশীয় তৈরি অস্ত্র প্রদর্শন করে দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। রোববার (১৩ জুলাই) সকালে তাকে চট্টগ্রাম আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।