নিষিদ্ধ পাহাড়ি ট্রেইল মেলখুম ভ্রমণে গিয়ে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, আহত ৩

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নিষিদ্ধ পাহাড়ি ট্রেইল মেলখুম ভ্রমণে গিয়ে পাহাড়ি পানির স্রোতে তলিয়ে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন তিন শিক্ষার্থী।

বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা। নিহতরা হলেন চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের নাপিতের চর গ্রামের মাওলানা আব্দুর রশিদের ছেলে আমিনুল ইসলাম গালিব (২২) ও চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর থানার মুন্সিরহাট ধনপট্টির ওবাইদুল কবিরের ছেলে ইব্রাহিম কবির হৃদয় (২২)।

নিহতরা ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ম্যাকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন চট্টগ্রামের সানকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়ার শামসুল হকের পুত্র সায়েম (২২), লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দারগঞ্জ গ্রামের মোহাম্মদ হাসানের পুত্র রায়হান (২২) ও মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মস্তাননগর গ্রামের মেহের আলী সাফরাজের ছেলে মিরাজ (১৭)। আহতদের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছে বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

আহত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় ফেনী থেকে আমি, হৃদয় ও গালিব ৩ জন মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকার মেলখুম ট্রেইলে বেড়াতে যাই। পথিমধ্যে মেলখুম ট্রেইল সড়কে দেখা হয় স্থানীয় যুবক মিরাজ ও রায়হানের সাথে। তাদেরসহ আমাদের সাথে নিয়ে যাই। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ট্রেইল এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়। ট্রেইল দেখে ফেরার পথে হৃদয় পা পিছলে পড়ে যায় তাকে বাঁচাতে গিয়ে গালিব ও আমি লাফ দিই। পরে তারা স্রোতে ভেসে গেলে আমাকে দ্রুত রায়হান উদ্ধার করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গালিব ও হৃদয় স্রোতে ভেসে গেলে পরে আমরা তিনজন ওখানে অনেক কষ্টে একটি গাছের উপর বাসে সারারাত কাটাই। পরে বুধবার সকালে আমাদের পরিচিত কিছু বন্ধু বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের নিয়ে আমাদের উদ্ধার করে।’

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজু সিংহ বলেন, ‘মেলখুম ট্রেইলে দুর্ঘটনার শিকার আহত তিন জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের শরীরে সামান্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে মিরাজকে ভর্তি করা হয়। বাকি দুই জন সায়েম ও রায়হান চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তাঁরা শারিরিক ও মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত।’

বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন তিতাস বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বুধবার দুপুর ২ টার দিকে খবর পেয়ে আমাদেও দুইটি ইউনিট লাশ উদ্ধারে তৎপরতা চালায়। সন্ধ্যা ৭ টায় প্রায় ৬ ঘন্টাপর নিহত দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে লাশ জোরারগঞ্জ থানা পুলিশকে সোপর্দ করা হয়েছে।’

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুই শিক্ষার্থীর লাশ সন্ধ্যা ৭ টার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’
এর আগে ২০২৩ সালের ১৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিরসরাই রেঞ্জ বন বিভাগের কর্মকর্তারা মেলখুমে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ইতিপূর্বে সেখানে একাধিকবার পর্যটক নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।