পায়ে ঢুকেছে পেরেক, দিলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন !

এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই :: চৌদ্দ বছর বয়সী শাফায়েত হোসেন নাঈম পেশায় গাড়ির গ্যারেজ শ্রমিক। কাজ করেন রাফিয়া মটরস এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে। সে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন সোনাপাহাড় গ্রামের আলী আজম মিয়া বাড়ির সালাহ উদ্দিনের একমাত্র পুত্র। কাজের ফাঁকে তার ডান পায়ের তালুতে একটি পুরাতন জং ধরা পেরেক ফুটে যায়। পেরেক ফুটার যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে সে এবং তার সহপাঠী ইকবাল হোসেন সাব্বিরসহ মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে যান। সেখানেই ঘটে যায় বিপত্তি। তাকে পুশ করার কথা ছিল টিটেনাস টক্সয়েড (টেটবেগ) ভ্যাকসিন অথচ এর পরিবর্তে তার শরীরে পুশ করা হয়েছে কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বাদুড়ের কামড়ে জলাতঙ্ক হওয়ার যে সম্ভাবনা থাকে তা থেকে সুরক্ষার ভ্যাকসিন ইনসেপটা ভ্যাকসিন লিমিটেডের রাবিক্স আইজি। যখন নাঈমের পরিবার বিষয়টি অবগত হয় তখন পরিবারের সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে ভ্যাকসিনটি দেওয়ার পর তার শরীরে জ্বর অনুভূত হলে পরিবারের সদস্যরা আরো ঘাবড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে নাঈমের বাবা সালাহ উদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিনের দ্বারস্থ হলে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের ইন্টার্নিরত মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট নাজমুল হাসান ভুলবশত রেবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং অভিযুক্ত নাজমুল হাসানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বরখাস্ত করার বিষয়টিও জানান। ঘটনাটি গত সোমবার (৩০ জুন) ঘটলেও জানাজানি হয় আরো পরে।

ভুক্তভোগী শাফায়েত হোসেন নাঈম বলেন, ‘আমি একটা গাড়ি মেরামতের গ্যারেজে কাজ করি। কাজ করা অবস্থায় আমার ডান পায়ে একটা পেরেক ফুটে যায়। তখন আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। তখন আমাকে এটিএসের পাশাপাশি আরো একটি ইনজেকশনও দেয়। ইনজেকশনগুলো দেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যখন ফার্মেসীতে ওষুধ কিনতে যাই তখন ফার্মেসীতে নিয়োজিত ব্যক্তি বলেন তোমাকেও বিড়াল বা কুকুর আচড় দেয়নি তাহলে কুকুরের ইনজেকশন কেন দিলো? তখন আমি উনাকে বলি হাসপাতাল থেকে যেভাবে আমাকে লিখে দিয়েছে আমি আপনার ফার্মেসী থেকে সেভাবে ইনজেকশন নিয়ে গিয়েছি। তখন আমি বুঝতে পারি আমাকে ভুল ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত আমি তাদের বিচার চাই।’

ভুক্তভোগীর বাবা সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে গাড়ির গ্যারেজে কাজ করার সময় তার ডান পায়ের তালুতে পেরেক ফুটে যায়। এরপর সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে যারা ছিল তারা একটা এটিএস লিখে দেয় এবং পাশাপাশি কুকুরের ইনজেকশনও লিখে দেয়। পরে দু’টো তার শরীরে পুশ করা হয়। পরে সে বাড়িতে এসে বিষয়টি আমাকে জানান। আমাকে জানানোর পর আমি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিনের কাছে যাই। কখন তিনি আমাকে জানান আমার ছেলের সাথে এমন ভুলের জন্য যে ইনজেকশন পুশ করেছে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু আমার ছেলের এই ইনজেকশন প্রয়োজন ছিল না তাকে তা পুশ করা হয়েছে। আজ না হয় কাল সমস্যা হতেও পারে। তাই আমি আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা করাতে চাই। চিকিৎসার জন্য যত খরচ হয় সব তাদের বহন করতে হবে।’

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে ভুক্তভোগীর বাবা আসছিল। আমি মস্তাননগর হাসপাতালে প্রায় ১৪ বছর যাবত নিয়োজিত আছি। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জরুরী বিভাগে ১৭ টা মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট পদের বিপরীতে ৫ জন নিয়োজিত আছেন। দীর্ঘদিন যাবত ওই পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সেই শূন্যতা পূরণে প্রশিক্ষণ শেষে ইন্টার্নিতে কিছু স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত আছেন। তাদের একজন নাজমুল হাসান ভুলবশত রেবিস ভ্যাকসিন দিয়ে দিছে। তবে এটি প্রোটেকটিভ ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিনে কোন ক্ষতি হবে না। যাইহোক ভুলতো ভুল। এটাও ভুল হওয়া উচিত ছিল না। এরপর সাথে সাথে তাকে সেখান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’