মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

মিরচট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা সদরের মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চরম পেশাগত অসদাচরণ, আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন নৈতিকতা বিবর্জিত ছবি ও ভিড়িও ছড়িয়ে পড়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (৪ জুন) বিকেলে চিঠির মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে উপজেলা সদরের একটি রেস্টুরেন্টে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে একটি কুচক্রী মহলের মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার বলে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভূঁইয়া। এদিকে আজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, পিবিজিএসআই স্কিমের আওতায় সরকারী অনুদানের টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, খারাপ ব্যবহার এবং প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভূঁইয়া তার পরিবারের সাথে একান্তে কাটানোর মুহুর্র্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে মঙ্গলবার (৩ জুন) মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

বুধবার মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী কর্তৃক প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে দেওয়া সাময়িক বরখান্তের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনার বিরুদ্ধে চরম পেশাগত অসদাচরণ, আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন নৈতিকতা বিবর্জিত ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা আপনার নৈতিকস্থলন হিসেবে গন্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ থেকে যা মোটেও কাম্য নয়। আপনার এহেন আচরন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে মানববন্ধন করেছে। এছাড়াও জাতীয় পত্রিকায় উল্লেখিত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং অত্র বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে আপনাকে চাকুরি বিধি-১৯৭৯ মোতাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িকভাবে বরখাস্ত চলাকালীন সময়ে সরকারি বিধি মোতাবেক আপনাকে খরপোষ প্রদান করা হবে।’

এদিকে বুধবার (৪ জুন) আজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মিরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহি উদ্দিনকে আহবায়ক এবং সীতাকুন্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সলিম উল্ল্যাহ ও বিশ^দরবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে সদস্য করা হয়।

বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা, বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ এবং অপমানজনক পোস্ট ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি। এইসব ভিডিও ফেইক আইডি থেকে আমাকে ইনবক্সে দিয়ে চাঁদা দাবি করে। তাদের আমি যদি ৪৫ লক্ষ টাকা দিই তাহলে এসব ছবি ও তথ্য তারা মুছে ফেলবে। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সাইবার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চিত্র। যার মাধ্যমে একজন শিক্ষককে সামাজিকভাবে হেয় করা, পদচ্যুত করা এবং তার মানসিক শান্তি ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এ বিষয়ে আমি মিরসরাই থানায় গত ৩০ মে একটি সাধারণ ডায়েীি (নং- ১৪৩২) করেছি।’

ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে পিবিজিএসআই স্কিমের আওতায় সরকারী অনুদানের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে অন্ধ ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী না থাকায় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়ন কাজে পিবিজিএসআই স্কিমের টাকা খরচ করা হয়েছে। যা ভাউচারের মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়েছে। আমি জীবনে কোনো দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিলাম না, এখনো নেই। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি এক টাকা দুর্নীতি করেছি, আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবো। আমার আগের কর্মস্থলগুলোতেও খোঁজ নিলে আমার সম্পর্কে ভালো মন্তব্যই পাবেন।’

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এটি/মিএএইচ/সিটিজি সংবাদ২৪