চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পেলেন জুলাই ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও বিস্ফোরক মামলার আসামী প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন। বৃহস্পতিবার (২২মে) জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। গত ২০ আগস্ট লোহাগাড়া থানায় দায়েরকৃত এক মামলায় সৈয়দ হোসেন(৪৩) এজাহারভুক্ত ১৮নং আসামী। তিনি চরম্বা ইউনিয়নের আতিয়ার পাড়ার আবদুল আলমের ছেলে ও চরম্বা ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ধারামতে ১০১, ১০২ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় কর্তৃক পরিষদের জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখার স্বার্থে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য সৈয়দ হোসেনকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পন করা হল। যাহার স্বারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০০০.০১৭.৯৯.০০৪৪.২২-৬৮৪। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতার সাথে তার ঘনিষ্টতার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়াও তিনি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে নৌকার পোস্টার হাতে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন এরকম কিছু ছবিও নেটিজেনরা শেয়ার করছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ হোসেন দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকায় সাধারন মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোম মাধ্যম ফেইসবুকে সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে।
আমিনুল হক নামে একজন ফেইসবুকে লিখেছেন, “নিঃসন্দেহে চিনেছেন। স্বাধীন দেশে এখনো আওয়ামী দোসর কিভাবে চেয়ারম্যান হয়?”
এমডি সাইফুল নামের একজন লিখেছেন, “ধন্যবাদ আপনাদের, যারা আমাদেরকে গুলি করার জন্য সবসময় রেডি ছিল, তাদের প্যানেল চেয়ারম্যান বানাইলেন।”
এব্যাপারে জানতে চাইলে সৈয়দ হোসেন জানান, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক মামলায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।”
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইনামুল হাছান জানান, এটা জেলা প্রশাসনের বিষয়। এখনো অফিশিয়ালী বিষয়টা আমরা জানি না। জানলে পরে বিস্তারিত জানাবো।