গণশৌচাগার না থাকায় ভোগান্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় পুরাতন রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন বাজারটি দক্ষিন চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারী সবজি বাজার হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে সকাল ১০/১১টা পর্যন্ত সবজি চাষী ও পাইকারি ক্রেতাদের ভীড় লেগেই থাকে এ বাজারে।

দোহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাঙ্গু নদী তীরবর্তী শঙ্খ চরের সবজি চাষীদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কালিয়াইশ, খাগরিয়া, সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, ধোপাছড়ি, পুরাণগড়, বাজালিয়া ও আমিলাইষ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবজি চাষীরা তাদের উৎপাদিত সবজি দোহাজারী পৌরসভায় অবস্থিত এই পাইকারী সবজি বাজারে বিক্রি করতে আনেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা পাইকারী ক্রেতারা এই বাজার থেকে প্রতিদিন সবজি ক্রয় করে ট্রাকযোগে নিয়ে যান চট্টগ্রাম মহানগরী সহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাজারে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইজারাদারের কাছ থেকে বিপুল অংকের রাজস্ব আদায় করে সরকারী কোষাগারে জমা দিলেও পাইকারি সবজি বাজারে আগত চাষি ও পাইকারদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাঁদের প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের জন্য একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রয়োজনীতা থাকলেও অদ্যাবদি এ বিষয়ে এতটা গুরুত্ব দেয়নি। দোহাজারী পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার আগে গত ২০১৭ সালে রেলওয়ে মাঠের পূর্ব দক্ষিণ কোনে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একটি গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিলো। পাইকারি সবজি বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের সুবিধার্থে নির্মাণ করা সেই শৌচাগারটি বর্তমানে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের কনস্ট্রাকশন এরিয়ার বাউন্ডারির মধ্যে থাকায় সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না পাইকারি সবজি বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতারা।

দোহাজারী পাইকারি সবজি বাজারে গণশৌচাগার না থাকার ফলে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে প্রায় সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। অনেকে নিরুপায় হয়ে পার্শ্ববর্তী সাঙ্গু নদীর তীরে ঝোপঝাড়ের আড়ালে গিয়ে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনে বাধ্য হন। সাঙ্গু নদীর তীরে যত্রতত্র মল-মূত্র ত্যাগ করার ফলে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে সাঙ্গু নদীর পানি। সাঙ্গু নদীর দুই তীরে বসবাসরত পরিবারগুলোর অসংখ্য মানুষ গোসল করা সহ দৈনন্দিন নানা কাজে এ দূষিত পানি ব্যবহার করছেন, এতে জনস্বাস্থ্য রয়েছে চরম হুমকির সম্মুখীন।

স্থানীয়রা বলছেন, জনগনের দুঃখ-দুর্দশা ও জনদুর্ভোগ লাঘবকল্পে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকারের উচ্চমহলের দৃষ্টিগোচরে আনার দায়িত্ব যাদের উপর বর্তায়, আমাদের সে সকল জণপ্রতিনিধিরাও গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যাপারে নিশ্চুপ রয়েছেন, যা অত্যান্ত দুঃখজনক। বাজারে গণশৌচাগার না থাকায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সবজি কিনতে আসা পাইকারি ক্রেতারা দোহাজারী সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করছেন প্রকাশ্যে। এতে দোহাজারীর সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি আমাদের জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরী হচ্ছে তাদের মধ্যে। দোহাজারীর সুনাম অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে এবং সবজি চাষি ও পাইকারদের সুবিধার্থে, সর্বোপরি জনদুর্ভোগ লাঘবকল্পে দোহাজারী পাইকারি সবজি বাজার সংলগ্ন এলাকায় অনতিবিলম্বে একটি গণশৌচাগার নির্মাণ অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। দ্রুততম সময়ে গণশৌচাগার নির্মাণকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দোহাজারী পৌরসভার মেয়র মো. লোকমান হাকিম বলেন, ”দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি সবজি বাজারটি পৌর এলাকায় হলেও এটির ইজারা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ওই বাজার থেকে পৌরসভা কোন রাজস্ব পায় না। পৌর কর্তৃপক্ষ যেখান থেকে রাজস্ব পাচ্ছে না সেখানে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করবে কি দিয়ে? পৌর এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কোন দপ্তর বাজার বসানোর এখতিয়ার না থাকলেও রেল কর্তৃপক্ষ বাজারটি ইজারা দিয়েছে। এবিষয়ে আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। পরবর্তীতে স্থান নির্বাচন করে পাইকারি সবজি বাজারে আগত সবজি চাষী ও পাইকারি ক্রেতাদের সুবিধার্থে গনশৌচাগার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম এর প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব) সুজন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম এস্টেট বিভাগের আওতাধীন দোহাজারী ষ্টেশনের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে চট্টগ্রাম-দোহাজারী শাখা লাইনের পশ্চিম পাশে রেললাইন থেকে ৫০ফিট দূরত্বে ১৯টি প্লট বানিজ্যিক ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে লাইসেন্স প্রদান আগে থেকেই চলে আসছে। ইজারা থেকে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে।

রাজস্ব আদায় বা ইজারা প্রদানের কর্তৃত্ব নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের যদি কোন আপত্তি থাকে তাঁরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখে তা জানাতে পারেন। রেল মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে যদি ভিন্ন কোন সিদ্ধান্ত আসে তাহলে পৌর কর্তৃপক্ষ বাজার ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করতে পারবেন। এটা কোন ব্যক্তিগত ইস্যু নয়। রেল কর্তৃপক্ষ আর পৌর কর্তৃপক্ষ যেই দপ্তরই ইজারা দিক রাজস্বের অর্থ তো সরকারি কোষাগারেই জমা হচ্ছে। দোহাজারী পাইকারি সবজি বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের জন্য গণশৌচাগার নির্মাণে পৌর কর্তৃপক্ষের তো কোন অসুবিধা থাকার কথা নয়।

আরও পড়ুন