লামা পৌরসভায় নারীর স্বেচ্ছাচারিতায় ৪ মাস ধরে পানিবন্দি এলাকাবাসী

বান্দরবানের লামা পৌরসভায় সরকারি কালভার্ট বন্ধ ও সড়কের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ। পৌরসভার ড্রেন বন্ধ করে দিয়ে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে, নিরব প্রশাসন।

লামায় সড়ক জনপথ এর জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে কর্নপাত করছেন না প্রশাসন। একটি বিতর্কিত খতিয়ানের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ ও পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়।

এর ফলে পৌরসভার অর্থায়নে করা একটি আরসিসি সড়ক ও কয়েকটি পরিবার জলমগ্ন হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে। এছাড়া লামা শহরের প্রবেশ পথ নয়াবাজার নামক স্থানে প্রধান সড়কে পানি জমে কার্পেটিং নষ্ট হচ্ছে। যোগাযোগে ৪ মাস ধরে পথচারীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

এই দূরাবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য ভুক্তভোগী অর্ধশত পরিবার প্রশাসনের দ্বারেদ্বারে ঘুরেও এর কোনো প্রতিকার পাইতেছেন না। সম্প্রতি রাজপথে দাঁড়িয়ে শতাধিক মানুষ স্বাভাবিক যোগাযোগ ও জলবদ্ধতামুক্ত হতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু ও প্রধান সড়কে নতুন ড্রেন নির্মানের দাবিতে মানববন্ধন করে ২ সাপ্তাহের আল্টিমেটাম দেয়। ২ সাপ্তাহের মধ্যে দুর্ভোগ লাগবে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে, ১৬ আগস্ট সড়কে অবস্থান ধর্মঘট করার ঘোষনা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে, ড্রেন বন্ধ করে দিয়ে সড়কের জায়গা জবর দখলকারী এক উপজাতি নারী ভুক্তভোগী প্রতিবাদকারীদেরকে নানান ভাষায় হুমকি দিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, এই স্বেচ্ছাচারী নারী নিজেকে বিচার বিভাগীয় কতিপয় পদস্থ ব্যাক্তির আত্মীয়, আবার কখনো নিজেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বড় কর্মকর্তার কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে দাপড় দেখাচ্ছেন।

জানাযায়, অন্য একজনের খতিয়ানের জমিতে এই নারীর সাবেক স্বামী জোরপূর্বক দখল নিয়ে স্ত্রীর নামে রেকর্ড করে দেয় জমির কিছু অংশ। সেখানে স্থাপনা করে প্রধান সড়কের জায়গাও দখল করেন সে।

বর্তমান এই নারী প্রধান সড়কের নূন্যতম জায়গা না রেখে আরেকটি আরসিসি কানেক্টিং সড়কের ড্রেন ও কালভার্ট দখল করে বহুতল স্থাপনা নির্মানের কাজ চলমান রেখেছেন। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, যে যার মতন রাম রাজ্যত্ব কায়েম করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে চরম বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, ‘কারো খতিয়ানের জায়গায় মালিক অনুমতি না দিলে পৌরসভা ড্রেন করতে পারে না।’ সড়কের দূরুত্ব বজায় না রেখে স্থাপনা নির্মাণ কিভাবে করছেন, জানতে চায়লে পৌর প্রশাসক জানান, ‘বিষয়টি পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে, তারা ব্যবস্থা নিবেন।

লামা পৌরসভার প্রকৌশলীর কাছে মুঠোফোনে কল করে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসডিই এর কাছে বিষয়ে কয়েকদফা জানতে চাওয়া হয়। প্রতিবারেই তারা সরেজমিন দেখে ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করলেও কাজের কাজ কিছুই করছেন না।

এদিকে সওজ কর্তৃপক্ষ লামার কোনো বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখান না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন ।