আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার আসামী বিতর্কিত সাংবাদিক আয়ান শর্মাকে গ্রেপ্তার ও তার মালিকানাধীন ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ ও ‘আলোকিত চট্টগ্রাম’ নামক অনলাইন পত্রিকা দুটি বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন করেছে সনাতনী সমাজ।
রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সনাতনী সমাজ ও বীর চট্টলাবাসীর ব্যানারে এই মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আজীবন সদস্য দোলন দেবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাপ্পী দে, সুব্র্রত আইচ, সৌরভ প্রিয় পাল, মিঠুন বৈষ্ণব, ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক, প্রশান্ত পান্ডে, বিপ্লব চৌধুরী বিলু, অপু চৌধুরী আকাশ, মিটন রবি দাশ, রুবেল পাল, সৈকত বোস, প্রভাষ দাশ, সাগর দাশ, সুকান্ত তালুকদার জুয়েল, রয়েল কুমার পাল স্মৃতি দে প্রিয়া, পান্না দাস, ডলি দাস, অপু দাস, অর্চনা দাস, মিনা বিশ্বাস প্রমুখ।
এতে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট আদালত চত্বরে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল আয়ান শর্মা। তাই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যায় ইন্দনদাতা এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসাবে মামলার আসামী করা হয়েছে। আয়ান শর্মা কেবল চট্টগ্রাম নয়, সমগ্র বাংলাদেশে একজন চাঁদাবাজ হিসাবে পরিচিত। একজন হত্যা মামলার আসামী কুখ্যাত চাঁদাবাজ কিভাবে এখনো জন্মাষ্টমী অফিসে যাতায়াত করে সেটা আমাদের বুঝে আসে না। ব্ল্যাকমেইলার চাঁদাবাজ আয়ান শর্মাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভারতে পালিয়ে থাকা ফেসিস্ট সরকারের নেতাদের সঙ্গে এখনো আয়ান শর্মা রাতে যোগাযোগ করেন অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, ভিডিও কলে জন্মাষ্টমী পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ কিভাবে দখলে রাখতে হবে তার নীল নকশা আঁকে। সাংবাদিক নামের কলঙ্ক আয়ান শর্মাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। সে সাংবাদিকতার মহান পেশাকে কলঙ্কিত ও অপমানিত করেছে।
বক্তারা আরও বলেন ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি ও দলবাজি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতা থেকে সনাতনী নেতা বনে যাওয়া চন্দন তালুকদার বা আয়ান শর্মার কাছে সনাতনী সমাজ জিম্মি নয়। আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আয়ান শর্মার গ্রেপ্তার ও ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ পত্রিকার নিবন্ধন বাতিল করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
বক্তারা বলেন, ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মুচলেখা সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত না করার অঙ্গীকার, পাহাড়তলী থানার এসআইয়ের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রমানিত হলে মুচলেখা দিয়ে সমঝোতা, পুলিশ কর্তৃক চাঁদাবাজ সাংবাদিকের তকমাসহ নানা অভিযোগ থাকার পরও সে অপসাংবাদিকতা বন্ধ করেনি। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার ও তার তথাকথিত মিডিয়া বন্ধ করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।