বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা পরিচালনা পরিষদের সভা হতে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশ,সেনাবাহিনী কর্তৃক গুলি চালিয়ে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচার ও শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা পরিচালনা পরিষদের এক সভা বুধবার সকাল ১১ টায় কমিউনিস্ট পার্টি চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা ও বাসদ( মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক এড শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা সভাপতি কমরেড অশোক সাহা,বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ কমরেড আলকাদেরি জয়,সিপিবি জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছফা ভূইয়া,বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সদস্য জাহেদুন্নবী কনক, প্রমূখ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন,“ নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডে এভারগ্রিন লিমিটেডের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের আন্দোলন দমাতে মালিকপক্ষের কারখানা বন্ধ এবং এর ফলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠা শ্রমিকদের ক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান না করে গুলি করে এক শ্রমিক হত্যা আমাদের বিগত আওয়ামীলীগ ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়কালকেই মনে করিয়ে দেয়।মজুরি না দিয়ে হঠাৎ কারখানা বন্ধ করায় জীবিকা হারানো শ্রমিকদের বিক্ষোভ প্রশমনের উপায় ছিল তাদের সাথে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ হতে দ্রুত আলোচনা করে মালিকের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের জীবিকার নিশ্চয়তা দেওয়া।এটাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি।সরকার গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার অতীতের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী নীতিতে বলপ্রয়োগে শ্রমিক বিক্ষোভ দমনের পথ বেছে নেওয়ার ফলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের গুলিতে এক শ্রমিক নিহত হলেন।এমনকি শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেরও কোন আলোচনা-উদ্যোগ নেই।অর্থাৎ সরকার ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ ও সংস্কারের কথা বললেও,শ্রমিকের বেলায় চলছে মালিকের স্বার্থরক্ষাকারী পুরনো আওয়ামী নীতিতেই। অথচ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছে এ শ্রমিকরাই। সে আত্মদান ভুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মালিকদের স্বার্থে সে শ্রমিকদের বুকেই গুলি চালাচ্ছে।
আমরা এ কারণেই বলেছিলাম,বিদ্যমান পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বহাল রেখে শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই,ফ্যাসিবাদ দূর হবেনা।যারা এ শ্রমিক হত্যার নীতি ও ব্যবস্থা পাল্টানোর কথা না বলে ফ্যাসিবাদের কবর দেওয়ার স্লোগান তুলছেন,তারা মালিকদের রক্ষার জন্য ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে বাধ্য।ফলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রমিকহত্যা ও দমনপীড়নের বিরূদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পাল্টানোর রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার জন্য শ্রমিকশ্রেণীকে আহবান জানাই।”
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রমিক হত্যার সাথে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করে বিচার ও শাস্তি,শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারকে একজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানা।