চট্টগ্রামে প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ওয়াকিল হোসেন বগার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় বগাসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নগরীর খুলশী থানায় ‘চট্টগ্রাম খবর’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ মামলাটি করেন। তিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আফলাতুনের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক গোলাম মোহাম্মদ নাসিম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘ওয়াকিল হোসেন বগা এবং তাঁর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক শেখ আরিফ মামলা করেছেন। এরই মধ্যে আমাদের চলমান অভিযানে আটক হওয়াদের মধ্যে তিনজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। বগাসহ অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’
মামলার এজাহারে বাদী পাঁচটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এজাহার অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি ও ২৫ এপ্রিল বাদীকে অপহরণ করে বগার আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
এদিকে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে পুলিশ। ৬ অক্টোবর ২০২৬ রাতে টাইগারপাসে অবস্থিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কার্যালয়ে বগা অবস্থান করছেন এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। তবে চসিক মেয়রের পদক্ষেপে পুলিশ সদস্যদের ভবনের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত বগাকে গ্রেফতার না করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফিরে আসতে হয়।
ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে একটি সরকারি জায়গা দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্যে গোলাগুলিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে বগার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে আট কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, দুই গ্যাংয়ের মধ্যে সম্প্রতি সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
গত ৩০ আগস্ট পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ভিডিওকলে রেখে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এতে বগাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।