সিমেন্ট শিল্পের গুচ্ছ প্রস্তাবনা দিলেন বিসিএমএ প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক

২০২৬-২৭ চলতি অর্থবছরে ক্লিংকারে কাস্টমস ডিউটি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, স্লাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাই অ্যাশ, জিপসামে ইনভয়েস মূল্য ধরে শুল্কায়ন এবং ভ্যাট ধার্যের জন্য ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছেন বিসিএমএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে এসব দাবি জানান বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) প্রেসিডেন্ট।

বাজেট ঘোষণার জন্য অর্থমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। 
তিনি লাইমস্টোন আমদানিতে সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে সম্পূরক শুল্ক আদায় সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

সোমবার (২৯ জুন) পাঠানো ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের পরিপ্রেক্ষিতে সিমেন্ট শিল্পের প্রতিক্রিয়া’য় আমিরুল হক বলেন, সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের ওপর কাস্টমস ডিউটি (সিডি) বর্তমানে অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ওপর ১৫ শতাংশ ধরা হয়। কোনো শিল্পের প্রধান কাঁচামালের ওপর কাস্টমস ডিউটি সাধারণত আমদানি মূল্য অথবা অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ওপর প্রায় ৫ শতাংশ হয়।

প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের ওপর অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ১৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, সিমেন্ট শিল্প মালিকদের কাছে মাত্রাতিরিক্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে। 

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি মেট্রিক টন ক্লিংকারের ওপর কাস্টমস ডিউটি ৭০০ টাকা আদায় করা হতো।

তাই আমরা জোর দাবি করছি, ক্লিংকারের ওপর কাস্টমস ডিউটি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৫০০ টাকা করা হোক। 

অগ্রীম আয়কর (এআইটি) প্রসঙ্গে বিসিএমএ প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে ঘোষিত বাজেটে আমদানি পর্যায়ে কাঁচামালের ওপর সিমেন্ট ক্লিংকারে ২ শতাংশ, স্লাগে ৩ শতাংশ, লাইমস্টোনে ৪ শতাংশ, ফ্লাই অ্যাশে ৩ শতাংশ এবং জিপসামে ৪ শতাংশ ধার্য করা হবে। এই আমদানি পর্যায়ে ছাড়াও সিমেন্টের বিক্রি পর্যায়ে ২ শতাংশ এআইটি ধার্য করা হচ্ছে।

আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, এআইটি এখন ফেরতযোগ্য, সমন্বয় যোগ্য এই জের টানা (Carry Forward) যাবে। তবে AIT এর হার (২-৪ শতাংশ) এত বেশি যে, সিমেন্ট শিল্পের জন্য নগদ প্রবাহের সমস্যা দেখা যায়। তাই এআইটিকে আমরা আমদানি ও বিক্রি পর্যায়ে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করছি।

আমিরুল হক বলেন, আমরা অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের ৫টি কাঁচামালেই আমদানি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অ্যাসেসেবল ভ্যালু ধরে শুল্কায়ন করা হচ্ছে।

সিমেন্ট ক্লিংকার আমদানি হয় প্রতি মেট্রিক টন ৪৮-৫০ ইউএস ডলারে, কিন্তু শুল্কায়ন করা হয় ৫২ দশমিক ৫০ ডলারে। স্লাগ আমদানি হয় প্রতি মেট্রিক টন ১৫ দশমিক ৫০ থেকে২৫ দশমিক ৯০ ডলারে, কিন্তু শুল্কায়ন করা হয় ৩০ ডলারে। লাইমস্টোন আমদানি হয় প্রতি মেট্রিক টন ১৫ দশমিক ৫০ থেকে ১৬ দশমিক ৫০ ডলারে, কিন্তু শুল্কায়ন করার হয় ২০ দশমিক ৫০ ডলার ধরে। ফ্লাই অ্যাশ আমদানি হয় প্রতি মেট্রিক টন ২২ দশমিক ৯০ থেকে ২৪ ডলারে, কিন্তু শুল্কায়ন করা হয় ৩০ ডলারে। জিপসাম আমদানি হয় প্রতি মেট্রিক  টন ২২ দশমিক ১০ থেকে ৩২ ডলারে, কিন্তু শুল্কায়ন করা হয় ৩৫ ডলারে। আমরা দাবি করছি, এই ৫টি কাঁচামালের ওপর শুল্কায়ন করার ক্ষেত্রে ‘ইনভয়েস মূল্য’ ধরে শুল্কায়ন করা হোক।

বিসিএমএ প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্পূরক শুল্ক সাধারণত ধার্য করা হয় বিলাস দ্রব্য এবং আমদানি নিরুৎসাহিত পণ্যের ওপর। কিন্তু ‘লাইমস্টোন’ সিমেন্ট শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল। প্রথমে ২০২২ সালের নভেম্বরে লাইমস্টোনের ওপর সম্পূরক শুল্ক ধার্য করা হয়। তখন আমরা এই অযৌক্তিক করের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং ২০২৩ সালের মার্চে এই সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে নতুন করে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ধার্য করা হয়, যা এখনও বিদ্যমান। সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে এই সম্পূরক শুল্ক আদায় সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আমরা পুনরায় এই সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বিভিন্ন কোম্পানির জন্য ভিন্ন ভিন্ন মূল্যের ওপর ধার্য করা হয়। ভ্যাট ধার্য করার জন্য ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তন করার দাবি করছি। অর্থাৎ সব সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে একই হারে প্রতি টনে ভ্যাট আদায় করা হোক।

ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তন করলে ভ্যাট নিয়ে মতপার্থক্য দূরীভূত হবে। আমাদের ধারণা ট্যারিফ পদ্ধতির মাধ্যমে সিমেন্ট খাত থেকে সামগ্রিক ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে বাড়তে পারে। আমাদের সমজাতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান (অর্থাৎ এমএস রড) খাত থেকে ট্যারিফ পদ্ধতি অনুযায়ী ভ্যাট আদায় করা হয়ে থাকে।