চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের এসএম ফজলুল হক ও মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকীর নেতৃত্বাধীন কমিটির কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সাথে এলামনাই এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে কেন এই কমিটিকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে তা জানতে রুল জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০১ জুলাই) সংগঠনের জীবন সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন সোহেলের করা রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি আকরাম হোসাইন চৌধুরী ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
রিট আবেদন থেকে জানা যায়, গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে এস এম ফজলুল হক স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি কমিটি ঘোষণা করেন। যেখানে তিনি নিজেকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন। সদস্যদের মতামত না নিয়ে গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে কমিটি গঠন হওয়ায় সেটিকে অবৈধ উল্লেখ করা হয় রীট আবেদনে।
রীট আবেদনে বলা হয়, সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল করিমের নির্দেশনায় গঠনতান্ত্রিকভাবে ২ মে একটি বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। এতে উপস্থিত প্রায় তিন হাজার জীবন সদস্যের মতামতে ভিত্তিতে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি নির্বাচনের লক্ষ্যে তিন মাস মেয়াদি একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, সদস্য হিসেবে একরামুল করিম, মাহবুবের রহমান শামীম, এম এ হালিম ও কামরুল হাসান হারুনকে মনোনীত করা হয়। এ কমিটির অনুমোদনের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কমিটি অনুমোদনের দিন হতে ৯০দিনের মধ্যে এডহক কমিটি একটি নির্বাচন আয়োজন করে পুর্ণাঙ্গ কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এডহক কমিটি এরই মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ জুলাই। তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’-এর শহীদদের স্মরণে এই তারিখ পরিবর্তন করে ৮ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ জুলাই শহীদদের স্মরণে ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ জানান, এস এম ফজলুল হক ও মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী কেউই এসোসিয়েশনের বৈধ জীবন সদস্য নন। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেবলমাত্র জীবন সদস্যই সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন। জেলা কার্যালয়ে এডহক কমিটি অনুমোদনের আবেদন করা হলেও সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক ফরিদুল আলম এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেননি।
রীটকারী সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন সোহেল বলেন, ফজু-ফারুকীর কমিটির কোনো আইনগত বৈধতা নেই। ওনারা সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো পকেট কমিটি করেছেন। অনৈতিকভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে ম্যানেজ করে কমিটি অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন। এটা আইনের বরখেলাপ। তাই একজন সচেতন সদস্য হিসেবে আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।