চট্টগ্রামে তারুণ্য সমাবেশে মির্জা ফখরুল

সাম্যের স্বদেশ প্রতিষ্ঠায় তরুণদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে

দেশে গণতন্ত্র তথা মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার প্রয়োগের চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ পর্যন্ত শহীদ হওয়া ভাইদের রক্তের ঋণ পরিশোধে তারুণ্যের সাহসী ও দূর্বার বাধভাঙ্গা আন্দোলনের বিকল্প নেই। নিপীড়িত নির্যাতিত, গুম হওয়া, পঙ্গু হওয়া, কারাবরণকারী জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের কাংখিত লক্ষ্য স্বৈরাচারী ফ্যাসিষ্ট সরকারকে বিদায় করতে চট্টগ্রামের বঙ্গোপসাগরের জলোচ্ছাসের মতো প্রবল শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তবেই এ রক্তখেকো সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে। দেশ বিদেশে প্রত্যাখাত হওয়ার পরও তারা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আবারও নিশিরাতের আদলে ভোট আয়োজনের ঘৃণ্য খেলায় মেতেছে, তাদের এ মনোবাসনা দেশের জনগণ কোনোদিনই পূর্ণ হতে দেবে না বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১৪জুন) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ী মোড়ে আয়োজিত যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিত আন্দোলনের বিকল্প নেই। সাম্যের বাংলাদেশ গঠনে দুর্নীতিবাজদের তাড়াতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া যেমন বলেছিলেন ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও‘ ঠিক তেমনি সময়ের প্রয়োজনে তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান ডাক দিয়েছেন ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ‘ সেই সাথে ‘বাংলাদেশ যাবে কোনপথে, ফয়সালা হবে রাজপথে‘।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ গতিপথ হবে গনতন্ত্রের, যেখানে সন্ত্রাস, অর্থ পাচার, দখল, চাঁদাবাজি চলবে না। ভোটাধিকার নিশ্চিত করে কথা বলার, বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তাই তরুণদের জন্যই আজকের তারুণ্য সমাবেশ। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, মামলা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমাদেরকে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের স্বকীয় স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়ে লেজুড়বৃত্তিতে মত্ত সরকার আজ বিশে^র গনতন্ত্রকামী সকল রাষ্টের কাছে খল হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা পাচার করে দেশকে একদিকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে, অপরদিকে স্যাংশন, ভিসানীতিসহ নানা বিধিনিষেধে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। তাদের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার নাই।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বরকত উল্লাহ বুলু, মোঃ শাহাজাহান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সভাপতি রনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, কেন্দ্রীয় যুবদলের নুরুল ইসলাম নয়ন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এদিকে সমাবেশকে ঘিরে অনুমতিসহ নানা নাটকীয়তা থাকলেও সমাবেশটি জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সভায় তরুণদের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। তবে সড়কে সমাবেশ হওয়ায় দিনজুড়ে চট্টগ্রাম নগরীতে যানজটে আটকে পড়ে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

আরও পড়ুন