নিজ সন্তান ড. ইউনূসকে বরণে উন্মুখ চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে জন্ম নেয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। জুলাই অভ্যুত্থানের সুফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মত নিজ শহর চট্টগ্রামে আসছেন এবং প্রায় দেড়যুগ পর নিজ গ্রামে যাবেন। তার আগমনকে ঘিরে ইতোমধ্যে পুরো নগরী ও তার আশেপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয়ে দুইদিন ধরে পুরো চট্টগ্রাম যেনো ছাদরে মোড়া এক অচিন শহর। ৬ বছর পর তিনি চট্টগ্রাম আসছেন। দেশে থাকলেও মামলা মকদ্দমা, দেশ বিদেশের নানা ব্যস্ততায়  নিজ মাতৃভূমিতে পা রাখতে পারেন নি।

 

বুধবার (১৪ মে) ড. ইউনুস চট্টগ্রামে একাধিক কর্মসূচীতে অংশ নিবেন। এদিন তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পঞ্চম সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসাবে যোগদান করবেন । পাশাপাশি তার পৈতৃক বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামও পরিদর্শন করবেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রামে পৌঁছার পর বন্দর পরিদর্শন করবেন এবং বন্দরের অভ্যন্তরে এনসিটি-৫ প্রাঙ্গণে একটি সভায় অংশ নেবেন। এরপর তিনি বন্দর ও জাহাজ চলাচল খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বাণিজ্য সংস্থার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সেখান থেকে যাবেন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে। সেখানে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করবেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টাকে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা এবং নগরীর অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী সড়কের যানজট পরিস্থিতির বিষয়ে বিফ্র করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উপদেষ্টা চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের জমির কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করবেন।

প্রধান উপদেষ্টার চট্টগ্রাম আগমনে একদিকে যেমন চাঁটগাবাসীর হৃদয়ে আনন্দ হিল্লোল বয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কঠোর নজরদারি আর তদারকি, তল্লাশি এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। প্রায় ৩৬ বছর পর নিজ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে সাজ সাজ রব পরিলক্ষিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘ডক্টর অব লেটারস’(ডি.লিট) উপাধি প্রদান করা হবে। এছাড়া, তিনি সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

চট্টগ্রামে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ। সার্কিট হাউস এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানস্থলে সোয়াট টিম ও ডগ স্কোয়াড থাকবে। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থাও মাঠে থাকবেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রাসেল জানান, প্রধান উপদেষ্টার আগমনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। এদিন জেলা পুলিশের প্রায় দেড় হাজারের বেশি সদস্য মোতায়ন থাকবে। এরইমধ্যে যারা দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন তাদের নির্দেশনা প্রদান শেষ হয়েছে।

জানা যায়, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, ডিটেকটিভ ব্রান্স, যৌথবাহিনী, সিআইডি, এনএসআই, ডিএসবি, এসবি, ডিজিএফআই ও এএসএফের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় মাঠ থাকবেন। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে নগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ। নাশকতা এড়াতে শহরের প্রবেশ মুখে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পলিশের ৩ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়ান থাকবে।

চট্টগ্রাম নগরবাসীর মধ্যে উচ্ছাস পরিলক্ষিত হয়েছে। জানতে চাইলে আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী মোঃ শফি জানান, ইউনূস চট্টগ্রামের সন্তান। তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে চট্টগ্রাম আসছেন তাতেই আমরা খুশি। ওনি দেশটা ভাল চালাচ্ছেন, আরও ভাল চালাক সেটাই চাইব।

আরও পড়ুন: ১১ হাজার কোটি টাকার কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন বুধবার

 

জিইসি মোড়ে কথা হয় জাফর আহমেদ মালু নামে এক সরকারী কর্মচারীর সাথে। তিনি বলেন, কালুরঘাট সেতু হলে আর কিছু লাগবে না। ইউনুস স্যার আমাদেরকে সেটাই দিবেন ইনশাল্লাহ। তার সাথে বোয়ালখালীর এক সাংবাদিক ছোটন যুক্ত করেন, অনেকেই আমাদের কালুরঘাট সেতুর স্বপ্ন দেখিয়েছে কিন্তু বাস্তবে হয়নি। এবার সেটাই হতে যাচ্ছে ইনশাল্লাহ।

আরও পড়ুন