মিরসরাইয়ে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন; সস্ত্রীক আটক বড় ভাই 

পরিবারের দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছেন। নিহতের নাম শাহাদাত হোসেন (৩৭)।

শাহাদাত উপজেলার ৫ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরগাং গ্রামের মনু মাঝি বাড়ীর মৃত নুর আহমেদের ছেলে। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এই খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাদাত রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। খুনে জড়িত বড় ভাই আলী হোসেন লাইটার জাহাজের কর্মচারী। খুনের ঘটনায় বড় ভাই সস্ত্রীক আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাই শাহাদাতের মেয়ে সামিয়া আক্তার (৫) ও বড় ভাই আলী হোসেনের ছেলে রনির (১০) সাথে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। সেটিকে কেন্দ্র করে বড় ভাই আলী হোসেন ও তার স্ত্রী ছলিমা খাতুনের সাথে ছোট ভাই শাহাদাত ও তার স্ত্রী পপি আক্তারের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের একপর্যায়ে বড় ভাই আলী হোসেন ছোট ভাই শাহাদাতকে গলাটিপে ধরলে শাহাদাত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

তাৎক্ষণিক বড় ভাই আলী হোসেন, তার মা রিজিয়া খাতুন ও পরিবারের লোকজন শাহাদাতকে অজ্ঞান অবস্থায় মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ঘোষণা করলে বিষয়টি বুঝতে পেরে বড় ভাই আলী হোসেন ছোট ভাইয়ের মৃতদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার ২ ঘন্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলী হোসেন ও তার স্ত্রী ছলিমা খাতুনকে আটক করে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার বলেন, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে বৃদ্ধ এক নারী ও দুই ব্যক্তি শাহাদাত হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির কাঁধে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ফারুফ উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারের দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও পরে দুই ভাইয়ের ঝগড়া এবং মারামারি একপর্যায়ে বড় ভাই গলা টিপে ধরায় শ্বাসরোধে ছোট ভাই শাহাদাতের মৃত্যু হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার ২ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বড় ভাই আলী হোসেন ও তার স্ত্রী ছলিমা খাতুনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’