নারীদের গর্ভবতী করতে পারলে বেতন ১৩ লাখ রুপি, গেরেপ্তার ৮

 

বন্ধ্যা নারীদের গর্ভবতী করতে পারলেই আয় হবে ১৩ লাখ রুপি। আবার না পারলেও রয়েছে ৫ লাখ রুপির সান্ত্বনা পুরস্কার। প্রতারণার এমনই এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে ভারতের বিহার রাজ্যের এক প্রতারক চক্র।

নিঃসন্দেহে লোভনীয় এই অফারটি পেতে আগে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এর জন্য লাগবে টাকা। রেজিস্ট্রেশনের এ টাকা চলে যায় প্রতারকদের পকেটে।

 

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিহারের নওয়াদা শহরের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় বিহার পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। সেখান থেকেই অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে মোট ২৫–৩০ জন ছিনতাইকারী জড়িত ছিল। ওই অভিযানে ৯টি মোবাইল ফোন, প্রিন্টার ও স্টোরেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

এনডিটিভি‘র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নওয়াদা জেলায় ‘অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট জব’ নামে একটি সংস্থা পরিচালনা করত চক্রটি। গর্ভধারণে অক্ষম নারীদের গর্ভে সন্তান এনে দিতে পারলে পুরুষদের ১৩ লাখ রুপির অফার দিত এজেন্সিটি।

 

ডিএসপি কল্যাণ আনন্দ এ বিষয়ে জানান, অভিযুক্তরা ‘অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট জব’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে প্রতারণা চক্রটি চালাচ্ছিল। তারা নারীদের গর্ভবতী করার নামে পুরুষদের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।

ডিএসপি আরো জানান, অভিযুক্তরা রেজিস্ট্রেশনের নামে অনলাইনে ৭৯৯ রুপি নিত। এরপর সিকিউরিটি ফির নামে ৫ থেকে ২০ হাজার রুপি নেওয়া হতো। তবে এরা কতজনের সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছে তা এখনো জানায়নি পুলিশ। অভিযুক্তদের ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনেকের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।

 

বিহারের পুলিশ জানায়, সারা দেশে অনলাইনে চলছিল এই কারবার। নারীদের গর্ভবতী করার নামে প্রতারণা করা হচ্ছিল। এ নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ এ মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করেছে এবং এর মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নওয়াদার সাইবার থানা এই চক্রের কথা ফাঁস করেছে। তথ্য মতে, অভিযুক্তরা নারীদের ছবি ও তথ্য অনলাইন থেকে সংগ্রহ করত। সেই সমস্ত নারীদের গর্ভবর্তী করার জন্য অফার দেওয়া হতো পুরুষদের। গর্ভবতী হলে ১৩ লাখ রুপি এবং না পারলে সান্ত্বনা পুরস্কার ৫ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো।

আরও পড়ুন