বছরের প্রথমদিন কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধানে যাত্রা করে ভারতের নতুন স্যাটেলাইট

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর নতুন স্যাটেলাইট এক্সপোস্যাট ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর খুঁজতে শুরু করলো মহাকাশ যাত্রা। এটি বিশ্বে দ্বিতীয় হলেও ভারতের জন্য প্রথম এক্স-রে পোলারিমিটার স্যাটেলাইট। এটি মহাকাশে কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান এবং পর্যবেক্ষণ করবে।

সোমবার (১ জানুয়ারি) ঠিক সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস রিসার্চ সেন্টার থেকে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্‌ল বা পিএসএলভি’র ৬০তম মহাকাশ যাত্রার এবারের সঙ্গি হয় এক্সপোস্যাট স্যাটেলাইট। এর আগে এ ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে শুধুমাত্র নাসা পাঠিয়েছিল।

ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথ বলেন, ‘আরও এক সাফল্য পেলাম পিএসএলভি-তে। এক্সপোস্যাট স্যাটেলাইট নির্দিষ্ট কক্ষপথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সামনে আরও উত্তেজনাময় সময় অপেক্ষা করছে। মাত্রই বছর শুরু হলো। এ বছর আরও অনেক প্রকল্প রয়েছে। ২০২৪ গগনযানের বছর।

স্যাটেলাইট টি মহাকাশে কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান এবং পর্যবেক্ষণ করা ছাড়াও উজ্জ্বলতম ৫০টি শক্তির উৎস পর্যবেক্ষণ ‘এক্সপোস্যাটের’ তালিকায় রয়েছে। মহাকাশের নিউট্রন স্টারগুলোকেও এই কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে অধ্যয়ন করবেন বিজ্ঞানীরা। আপাতত এক্সপোস্যাটকে রাখা হয়েছে পৃথিবী থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে।

কৃত্রিম উপগ্রহটির আয়ু ধরা হয়েছে পাঁচ বছর। পৃথিবীর ওপরে নিচু কক্ষপথেই প্রদক্ষিণ করবে এক্সপোস্যাট। ভূমি থেকে তার সর্বোচ্চ উচ্চতা হবে ৫০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার। এক্সপোস্যাটে রয়েছে দু’টি পেলোড- পোলিক্স (পোলারিমিটার ইনস্ট্রুমেন্ট ইন এক্স-রে) এবং এক্সস্পেক্ট (এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি অ্যান্ড টাইমিং)। রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার যৌথ ভাবে এই পেলোড তৈরি করেছে।

মহাকাশে এক্স রশ্মির উৎস খুঁজবে এক্সপোস্যাট। এর মাধ্যমে কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে গবেষণায় নতুন দিশা পেতে চলেছে ইসরো। কৃষ্ণগহ্বরের উপস্থিতি, সন্ধান, উৎস প্রভৃতি নানা তথ্য জোগাড় করবে এই স্যাটেলাইট।

মহাকাশে যখন কোনও তারার ‘মৃত্যু’ হয় অর্থাৎ কোনও নক্ষত্র ধ্বংস হয় তখন সৃষ্টি হয় কৃষ্ণগহ্বর এবং নিউট্রন স্টার। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সর্বোচ্চ মহাকর্ষীয় বলের অধিকারী ব্ল্যাক হোল।

এছাড়া অনেকগুলো নিউট্রন কণা গাঢ় ঘনত্বে একত্রিত হয়ে তৈরি তারার নাম নিউট্রন স্টার। এ ধরনের নক্ষত্র অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের হয়। সর্বসাকুল্যে নিউট্রন স্টারের ব্যাসার্ধ ৩০ কিলোমিটারের বেশি নয়। সেই নক্ষত্রগুলোকেও পর্যবেক্ষণ করবে এক্সপোস্যাট। এই মিশনে ২৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে ইসরো।

আরও পড়ুন