কুতুবদিয়ায় ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে, যৌতুকের দাবীতে  নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রীর 

মাত্র ১৩ মাস হয়েছে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন সালমা আকতার।কিন্তু প্রাণের সেই স্বামীর হাতেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন প্রেমিকের সাথে পালিয়ে বিয়ে করা সালমা। যৌতুকের জন্য তাঁর হাত পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বেদম পিটুনিতে আঘাত করেছে শরীরের বিভিন্ন অংশে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর বড়ঘোপ এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

গত বছরের আগষ্টের ৬ তারিখ কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর বড়ঘোপ এলাকার আবুল বশরের পুত্র ওমর ফারুকের সাথে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে পালিয়ে বিয়ে করেন একই এলাকার সালমা আকতার।

সালমা আকতার জানান, পরিবারের অমতে ভালোবেসে ওমর ফারুককে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিয়ের ৬ মাসের পর থেকে ওমর ফারুকের মামা মোঃ আজিজ ওমর ফারুককে শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুক নেওয়ার জন্য বলার পর থেকে আমার উপর শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন শুরু হয়। কয়েকমাস আগে যৌতুকের জন্য আমাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। কয়েকদিন আগে আমার স্বামী আর নির্যাতন করবে না বলার পর তার সরল কথা বিশ্বাস করে তার সাথে চলে যায়। শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুক ছাড়া কেন আসলাম বলে আমার স্বামী ওমর ফারুক, তাঁর মামা মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ, আমার শ্বাশুড়ি আমাকে মারধর করে। সকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর সকাল ১১টার দিকে যৌতুকের জন্য ভাইদের বলার জন্য আবারও মারধর করেন। মারধরে তার ডান হাত ভেঙে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন বলে তিনি জানান। যৌতুক লোভী স্বামী ওমর ফারুক, মামা শ্বশুর মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ ও শ্বাশুড়ির বিচার দাবী করেন।

নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সালমা আকতারের স্বামী ওমর ফারুক বলেন, তাঁকে মারধর করা হয়নি। যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা দাবী করেন তিনি।

সালমা আকতারের বড় ভাই জানান, যৌতুকের দাবীতে সালমা আকতারকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বল জানান তিনি।

এই বিষয়ে বড়ঘোপ ১নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য মাঈন উদ্দিন হাসেম (মিন্টু) জানান, এলাকারব গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। স্বামী ওমর ফারুক নির্যাতন করবে না প্রতিশ্রুতি দিলেও স্ত্রীকে মারধর করে। শুক্রবার সকালে সালমা আকতারকে নির্যাতনের বিষয়টি তার পরিবার জানানোর পর হাসপাতালে গিয়ে দেখি তাঁর ডান হাতে আঘাত। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন।