সরকারি অনুমতি ছাড়া বিদেশে গেলেন ঘারুয়ার ইউপি চেয়ারম্যান; ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ মুন্সির বিরুদ্ধে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সপরিবারে সৌদি আরব যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে সরকারি খাল খনন, মৎস্য প্রকল্প, ইউনিয়ন পরিষদের ভবন বিক্রি এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে প্রায় ৩ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

​অনুমতি ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ:
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ মুন্সি সপরিবারে সৌদি আরব গমন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিদেশ ভ্রমণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এই চেয়ারম্যান কোনো অনুমোদন বা ছুটি নেননি। একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​ভুয়া প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার দুর্নীতি:
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাবেক সরকারের আমলে চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ মুন্সির বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘খাল খনন’ প্রজেক্টের নামে তিনি ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি একই খালকে একবার ‘খাল খনন’ এবং আরেকবার ‘মৎস্য প্রকল্প’ হিসেবে দেখিয়ে সরকারি তহবিলের অর্থ লুটপাট করেছেন।

​অভিযোগ রয়েছে, এই দুই ভুয়া প্রজেক্টের নামে তিনি প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন। টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি লেবার ও সরদারদের নামে-বেনামে বিভিন্ন ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং পরবর্তীতে সুকৌশলে সেই টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেন।

​সরকারি ভবন বিক্রি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম
দুর্নীতির এখানেই শেষ নয়; সম্পূর্ণ নিয়ম-বহির্ভূতভাবে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের একটি পুরাতন ভবন বিক্রি করে দিয়েছেন।
​পাশাপাশি, তৎকালীন সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’-এর প্রায় ৩০০টি ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রেও তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। এই ঘরগুলো নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি বিভ্রান্তিমূলক ও উল্টাপাল্টা প্রজেক্ট দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​প্রশাসনের পদক্ষেপের দাবি:
জনপ্রতিনিধি হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন বেপরোয়া দুর্নীতি ও সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়ে প্রশাসন এখন কী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ঘারুয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।