দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসই সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কার্যকর উপায়: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক) বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি বেশি। এদেশে প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিধস, অগ্নিকাণ্ড ও নদীভাঙনের ফলে জীবন-জীবিকা ও অবকাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলে। প্রচলিত জরুরি সাড়াদান, ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার নির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস, সহনশীলতা বৃদ্ধি ও টেকসই পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে সরকার। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসই সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

উপদেষ্টা (সোমবার) বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানিত বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা বলেন, দুর্যোগ প্রশমন দিবসের এবছরের প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত উদ্যোগ, প্রতিরোধ করি দুর্যোগ’ যথার্থ হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সকল প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল সহযোগী সংস্থা ও সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে National Emergency Operation Centre (NEOC) প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং স্থানীয় অবকাঠামো নির্মাণ কমিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীভূত করা, শিক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য জ্ঞান ও পাঠ অন্তর্ভুক্ত করাসহ প্রশিক্ষিত সেচ্ছাসেবক সমস্যা নিরসনে আনসার ও ভিডিপিকে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে।

তিনি বলেন, উপকূল অঞ্চলে ইতোমধ্যে নির্মিত ও নির্মাণাধীন দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রস্তাবিত দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। বিগত দিনে বেশকিছু আশ্রয়কেন্দ্র অযৌক্তিকভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্মাণ করে জনগণের অর্থ অপচয় করা হয়েছে। তাই প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো জনগণের গুরুত্ব বিবেচনায় নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র সারাবছর জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করার জন্য  জেলা ও উপজেলা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসময় তিনি নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই উন্নয়ন সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সরকরি-বেসরকারি সংস্থা,  উন্নয়ন সহযোগীসহ সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বিএমপি কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন বক্তৃতা করেন। আলোচনা সভায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্কাউটস ও গার্লস গাইডের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে উপদেষ্টা দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির উদ্বোধন করেন। র‍্যালিটি সার্কিট হাউজ থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শেষ হয়। আলোচনা সভা শেষে উপদেষ্টা নগরীর বেলস পার্কে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মাঠ মহড়ায় অংশ নেন ।