চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের অধীনে কোদালা বিটে সরকারি বনভূমি জবরদখল মুক্ত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে চিহ্নিত ভূমি দস্যু ও একাধিক বন মামলার আসামিদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন-এর ওপর অতর্কিত হামলা করলে হাত ও মাথায় গুরুতর আহত হয় । এ ঘটনায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ বন বিভাগের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, আজ বন বিভাগের প্রতিনিধি দল কোদালা বিটের এভিয়ারি এন্ড ইকোপার্ক রাঙ্গুনিয়ার পার্কিং সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত দুইটি ঘর এবং ঘেরা-বেড়া উচ্ছেদ করে।অভিযানে ৫ একর বনভূমি ও ৩ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
পরবর্তীতে এভিয়ারি এন্ড ইকোপার্কের পিকনিক স্পট দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে সেখানে একটি ঘর উচ্ছেদের পর দখলদারেরা বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার নাজনিন ফারজানা সেতু উপস্থিত হলে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন তাঁর সাথে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা রত ছিলেন। এ সময় চিহ্নিত ভূমি দস্যু আহমেদ (আহমুদুল হক প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ দখল করে ঘর তৈরির অপরাধে বন মামলার আসামি), মাহবুব (প্রকাশ পঁচাইয়া), মোঃ ফারুক (পাহাড় কাটার সাথে জড়িত), মোঃ হোসেন (৫টি বন মামলার আসামি), আনোয়ার (৬টি মামলার আসামি) এবং বাবুল-এর নেতৃত্বে ২০০ থেকে ২৫০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন ও বন বিভাগের দলের ওপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার নাজনিন ফারজানা সেতুর সামনে হামলা চালায়।
এতে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কর্মকর্তাদের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা ও সরকারি কাজে বাধার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।
সরকারি বনভূমি রক্ষা ও পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে জানান। এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত পদক্ষেপ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।