চট্টগ্রাম নগরীতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত ও নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।
রোববার (১১ অক্টোবর) নগরীর কোতোয়ালী, খলিফাপট্টি, আবেদিন কলোনি, চকবাজার কাঁচাবাজার ও পাহাড়তলীর বিটাক এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৭টি ভবন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ২০ লাখ টাকা জরিমানা আদায়, ৩টি ভবন সিলগালা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় ৫টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
অভিযানকালে অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি ভবনমালিকদের ভবিষ্যতে চউক অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ পরিচালনার অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে আবেদিন কলোনি এলাকায় একটি ভবনে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় পাওয়া যায়। আটতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও ভবনটি ১১ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। এ সময় ভবনমালিকপক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি মাত্র নির্মাণকাজের বিদ্যুৎ মিটারের মাধ্যমে ভবনটির ভাড়াটিয়াদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। ভবনটিতে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করায় মানবিক দিক বিবেচনায় সেটি সিলগালা করা হয়নি। এ কারণে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
চউকের চিফ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান মোহাং মনজুর হাসান এবং অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান শেষে মোহাং মনজুর হাসান বলেন, অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে চউকের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অথরাইজড অফিসার তানজিব হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীকে পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চউক নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালী, চকবাজার ও পাহাড়তলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। নগরীর ভবনগুলোকে যথাযথ নিয়মের আওতায় আনতে প্রতি মাসে দুই থেকে তিনটি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ভবনমালিকদের চউক অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে ভবন নির্মাণের আহ্বান জানান।
অভিযানে চউকের সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াছ আকতার ও মো. হামিদুল হক; ইমারত পরিদর্শক মো. তোফায়েল হোসেন, বিমান বড়ুয়া, আবু জাফর ইকবাল, গৌরাঙ্গ চন্দ্র পাল, জোবাইর ইবনে আনোয়ার ও মো. সাইদুর রহমান; অফিস সহায়ক মিথু কুমার চৌধুরী এবং ম্যাজিস্ট্রেট শাখার পেশকার হারাধন দাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।