তুজারপুর ভূমি অফিসে জালিয়াতির সাম্রাজ্য: তহসিলদার বদীউজ্জামান বদুর বিরুদ্ধে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া নথির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের পাহাড় জমে উঠেছে।সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, জমি জবরদখল ও প্রশাসনিক অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তুজারপুর ইউনিয়ন তহসিলদার বদীউজ্জামান বদুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

প্রশাসনিক দোহাই দিয়ে শোকজ করা হলেও অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে এই তহসিলদারের দুর্ধর্ষ সব অপরাধচিত্র।

​দলিলে নিজের ও ৫ জনের নাম: মূল অংশীদারদের ঠকিয়ে রেলের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সমষ্টিগত বক্তব্য অনুযায়ী, তুজারপুর ইউনিয়ন তহসিলদার বদীউজ্জামান বদু জালিয়াতির এক সুচতুর ফাঁদ পাতেন। তিনি কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের মূল অর্থদাতা বদীউজ্জামান বদু নিজে হলেও, প্রতারণার কৌশলে দলিলে নিজের নামের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও পাঁচজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

​তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল জমিটির প্রকৃত অংশীদারদের প্রতারিত করা ও সম্পূর্ণ ঠকানো। জমি ক্রয়ের পর সেই জায়গার ওপর একটি অস্থায়ী ছাঁপরা ঘর উত্তোলন করে জমিটি কৌশলে রেললাইনের অধিগ্রহণের আওতায় ফেলেন। ছাঁপরা ও ভুয়া স্থাপনার সরকারি ক্ষতিপূরণের টাকা ইতিমধ্যেই নিজের ও সহযোগীদের নামে তুলে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মূল জমির ক্ষতিপূরণের সুবিধাও প্রকৃত অংশীদারদের বঞ্চিত করে, নিজের ও দলিলে থাকা অন্য পাঁচজনের নামের ওপর ভর করে পুরো টাকা আত্মসাতের পায়তারা চালাচ্ছেন তিনি। আদালতের আশ্রয় নিয়েও ক্ষমতার দাপটে টানা দুই বছর ধরে মূল পাওনাদারদের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছেন এই তহসিলদার।

​ছিলাধর চর সদরদিতে বহুতল ভবন ও ২০ বছরের দুর্নীতির সাম্রাজ্য স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর যৌথ বিবৃতিতে জানা যায়, তহসিলদার বদীউজ্জামান বদুর স্থায়ী বাড়ি গোপালগঞ্জ এলাকায় হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন পৌর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ঘুষ-দুর্নীতির অবৈধ টাকায় তিনি ফরিদপুর শহর এবং সিলার দরজার সদরদি এলাকায় স্বপন ডাক্তারের বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন ও অট্টালিকা।

​এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ, যেখানেই তাকে বদলি করা হোক না কেন—মাত্র দুই, তিন বা পাঁচ দিনের মাথায় আবারও রহস্যজনক প্রশাসনিক প্রভাবে ভাঙ্গায় স্বপদে বহাল হয়ে আসেন তিনি।
​জনঅসন্তোষ ও আইনি শাস্তির দাবি তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হওয়া সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ—সাধারণ মানুষের সাথে চরম দুর্ব্যবহার, ঘুস দাবি এবং ভুয়া কাগজ বানিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা ঝুলিয়ে রাখা এই তহসিলদারের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

​ইউএনও কর্তৃক শোকজ পাওয়ার কথা স্বীকার করে তহসিলদার বদীউজ্জামান বদু জানান, প্রশাসনিক অবহেলার কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তিনি নির্ধারিত সময়ে শোকজের জবাব দেবেন। তবে এলাকাবাসী ও প্রতারিত ভুক্তভোগীদের জোর দাবি, সিলার দরজার সদরদি ও কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার জালিয়াতিসহ তাঁর যাবতীয় অপকর্মের নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।