চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাদ্রাসার টিনের চাল থেকে খেলার বল আনতে গিয়ে ”বিদ্যুৎস্পৃষ্টে” ফরহাদ হোসেন আসহাব (১০) নামে এক হেফজখানার ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের হোসেন আলী মাতব্বর পাড়ায় মাসুমা ফাউন্ডেশন পরিচালিত তালিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও হেফজখানায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসহাব উপজেলার পূর্ব কলাউজান ৮নং ওয়ার্ডের মিয়াজী পাড়া এলাকার মোহাম্মদ ফারুকের ছেলে। সে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের আবাসিক ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মাদ্রাসার মাঠে সহপাঠীদের সাথে টেনিস বল নিয়ে খেলা করছিল আসহাব। একপর্যায়ে তাদের টেনিস বলটি মাদ্রাসার টিনের চালের ওপর গিয়ে আটকে যায়। আসহাব বলটি আনতে টিনের চালে উঠলে সেখানে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত
লোহাগাড়া সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তালিমুল কুরআন মাদ্রাসায় বিভিন্ন গাছে ও টিনের চালে এলোমেলোভাবে বৈদ্যুতিক তার ঝুলে আছে। মাদ্রাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পরিচালনা কমিটি ও মাদ্রাসা পরিচালকের কোন নজরদারি নেই। এলোপাতাড়ি ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের কারণে যে কোন মুহূর্তে আরো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের নিরাপত্তার ব্যাপারে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্যজনক। মাদ্রাসার মাঠে, গাছে গাছে এলোমেলোভাবে ঝুলছে খোলা বৈদ্যুতিক তার, নেই সিসি ক্যামেরা।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এজাজুল ইসলাম শিহাব জানান, সকাল ১১টার সময় তাকে নিয়ে আসে। ছেলেটির শরীরের বেশ কয়েক স্থানে জখমের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণ করা যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কারণে মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সেলিম বলেন, সাড়ে ৬টায় দুর্ঘটনা ঘটলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের সাড়ে ৮ টায় জানিয়েছেন। তাদের আচার-আচরণ রহস্যজনক মনে হয়েছে। মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই দুর্ঘটনার কারণ।
মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ নোমান মাদ্রাসার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব ও উদাসীনতার কথা স্বীকার করে বলেন, পাশে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণকাজ চলার কারণে বৈদ্যুতিক তার এলোমেলো হয়ে গেছে। শীঘ্রই ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার ঠিক করা হবে ও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হবে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।