উদ্বোধনের আগেই ধস: ভাঙ্গা পূর্ব সদরদী টেকনিক্যাল কলেজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সদরদীতে নির্মাণাধীন টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ উদ্বোধনের আগেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। হস্তান্তরের আগেই ভেঙে পড়েছে প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) এবং ভবনের বিভিন্ন স্ট্রাকচারে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ধস।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে এই মেগা প্রকল্পটির কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পেয়েছিল ‘আলাউদ্দিন ট্রেডার্স’ নামক ফরিদপুরের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, কার্যাদেশ পাওয়ার পর মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে স্থানীয় অন্য এক পক্ষকে এটি ‘সাব-কন্টাক্ট’ (উপ-ঠিকাদার) হিসেবে বুঝিয়ে দেন। এরপর থেকেই নির্মাণকাজে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে।

​যেসব অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী:
​সীমানা প্রাচীর ও স্ট্রাকচারে ধস: কাজ শেষ হতে না হতেই এবং আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই সীমানা প্রাচীরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে ও হেলে যায়। সেই সাথে ভবনের বিভিন্ন অংশের স্ট্রাকচারেও ত্রুটি দৃশ্যমান হয়েছে।

​নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার: স্থানীয়দের দাবি—ইট, রড, বালু ও সিমেন্ট নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন বা মান অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়নি। নরম মাটিতে যথাযথ পাইলিং বা শক্ত ভিত্তি ছাড়াই তড়িঘড়ি করে দেয়াল তুলে ফেলা হয়।

​ধারাবাহিক অনিয়ম: কাজ চলাকালীন বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির নিউজ প্রকাশিত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো পাত্তা দেয়নি।

​কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ:
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কাজ নিয়ে শুরু থেকেই নয়ছয় হলেও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা ও ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা ছিল নীরব। বারবার অনিয়মের বিষয়টি নজরে আনা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা ও রহস্যজনক নীরবতার কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পার পেয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সাথে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করার জোড় দাবি জানিয়েছেন।
​প্রতিবেদকের নোট: এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি