ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিম নগর ইউনিয়নের থানমাত্রা গ্রামে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি পরিবারকে বসতভিটা ছাড়া করার অমানবিক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের দেওয়া বাড়তি তালার কারণে নিজ ঘরে প্রবেশ করতে পারছে না ভুক্তভোগী পরিবারটি। ফলে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর বইখাতা ও শিক্ষা উপকরণ ঘরের ভেতর আটকা পড়ে তার শিক্ষা জীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী নাসিমা বেগম (৩৮) এ ঘটনায় মাজেদ শরীফ ও দেলো শেখসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনশূন্য বাড়িটি এখন নিস্তব্ধ। পরিবারটি প্রাণের ভয়ে বাড়িতে না থাকায় এক সময়ের পরিপাটি উঠান এখন শুকনো পাতায় ঢেকে গেছে। দীর্ঘদিন ঝাড়ু না দেওয়ায় বাড়ির আঙিনায় ঝরা পাতার স্তূপ জমে অযত্নের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ সাজানো সংসারটি এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় পরিত্যক্ত বাড়ির মতো পড়ে আছে।
বাড়ির তালাবদ্ধ অবস্থার কথা প্রথম জানায় নাসিমা বেগমের ছোট মেয়ে পরশি আক্তার। সেই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পরশি বলে, আম্মু আমাকে বাড়িতে পাঠিয়েছিল কিছু জিনিস আনতে। আমি গিয়ে দেখি আমাদের ঘরের দরজায় বড় বড় দুইটা তালা মারা। আমি তো অবাক হয়ে যাই কারণ আমাদের ঘরে তো একটা তালার চাবি থাকে। আমি যখন আম্মুকে এসে বললাম, আম্মুও বিশ্বাস করতে পারছিল না। আমরা বই-খাতা আনতে গিয়েও ঘরে ঢুকতে না পেরে ফিরে এসেছি। আমার ভাইয়ের সামনে পরীক্ষা, বই ছাড়া ও কীভাবে পড়বে?”
নাসিমা বেগমের ছেলে রাজ এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। ঘরের দরজায় জোড়া তালা থাকায় তার পড়াশোনার সব বই ও খাতা ভেতরেই আটকা পড়ে আছে। রাজ কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে, “সামনে আমার পরীক্ষা, অথচ বই ছাড়া আমি কিছুই করতে পারছি না। আমরা বই আনতে গিয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাদের ঘরে ঢুকতে দেয়নি। পড়ার টেবিল থেকে বইগুলো না আনলে আমি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবো না। আমি দ্রুত প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ চাই।”
নাসিমা বেগম অভিযোগ করেন, গত ১৫ এপ্রিল তার স্বামী মতিউর রহমানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বামীর চিকিৎসার জন্য পরিবারটি অন্যত্র থাকার সুযোগে মাজেদ শরীফ ও তার সহযোগীরা ঘরে অতিরিক্ত তালা ঝুলিয়ে দেয়। নাসিমা বেগম বলেন, “আমাদের ঘর আছে কিন্তু আমরা ঢুকতে পারছি না। আমার সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এখন যাযাবরের মতো অন্যের আশ্রয়ে আছি। আমি সাংবাদিক ও প্রশাসনের মাধ্যমে আকুল আবেদন জানাই—আমাদের ঘরের তালা খুলে দেওয়া হোক এবং আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হোক।”
ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের নিরাপত্তা এবং বসত ঘরে ফেরার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবারটিকে ঘরে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হবে।