চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কুকুর মরা খালটি নাব্যতা সংকটের কারনে শুকনো মৌসুমে মরা খালে পরিণত হয়। পলি জমে তলা ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে খালটির গভীরতা না থাকায় শুকনো মৌসুমে সাঙ্গু নদীর জোয়ারের পানি ওঠে না এই খালে। ফলে সাঙ্গু নদীর কাছাকাছি হওয়া সত্বেও সেচ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পূর্ব দোহাজারী, কিল্লাপাড়া, রায়জোয়ারা, হাতিয়াখোলা এলাকার হাজারো কৃষক। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারনে নষ্ট হয় কয়েকশ কানি জমির ফসল। এমতাবস্থায় এলাকার কৃষি সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে খালটি পুনঃ খনন করার দাবি জানাচ্ছেন এলাকার কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা যায়, কুকুর মরা খালের নাব্যতা বাড়ানোর লক্ষে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর উদ্যোগে ২০২০-২১ অর্থবছরে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পেটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) এর আওতায় খালটির এক দশমিক পাঁচ কি.মি. অংশ পুনঃ খনন করা হলেও তার সুফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। দুই পাড়ের মাটি খালে পড়ে তলা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এটির গভীরতা কমে গেছে। খালের গভীরতা না থাকায় খালটিতে সাঙ্গু নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারছে না। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে রায়জোয়ারা বিলের পানি নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আর শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হয়।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডারখ্যাত শঙ্খ চরের চাষীরা গভীর নলকূপ স্থাপন করে ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে তা দিয়ে শুকনো মৌসুমে ক্ষেতে সেচ দেন। ভূ-উপরিস্থ পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। এদিকে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য গভীর নলকূপ থেকে দেদারসে পানি উত্তোলন করায় ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎসের ওপর চাপ পড়েছে। ফলে পূর্ব দোহাজারী এলাকার অধিকাংশ নলকূপ দিয়ে পানি পেতে সমস্যা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অবস্থা আরো ভয়াবহ রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর কৃষকদের নির্ভরশীলতা কমাতে কুকুর মরা খাল পুনঃ খনন করে ব্যবহার উপযোগী করার পাশাপাশি খালে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানির মজুদ বাড়ানো ও শুকনো মৌসুমে পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। সাঙ্গু নদী থেকে কুকুর মরা খালে শুকনো মৌসুমে পানি প্রবেশ করলে খালের দুই পাড়ের জমি সেচের আওতায় আসবে। এতে প্রায় দুই হাজার কৃষক ভীষণ উপকৃত হবে এবং কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।
এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) দোহাজারী জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, “কুকুর মরা খাল পুনঃ খনন করলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন হলেও সেচ সুবিধার জন্য শঙ্খনদী থেকে জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে না। সেচ সুবিধার জন্য খালটির মুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করে পাম্পের মাধ্যমে শঙ্খ নদীর পানি কুকুর মরা খালে প্রবেশ করাতে হবে। খালটি সার্ভে করে পুনঃ খননের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে দরপত্র আহবান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”