ফটিকছড়িতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ছিল না নির্বাচনী আমেজ

আসন্ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় দেখা গেছে একেবারেই ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র। বিগত জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য নির্বাচনের সময় মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে যে উৎসবমুখর পরিবেশ, মিছিল ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যেত – এবার তার কোনো প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়নি। আগের নির্বাচনগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে উপজেলা পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও এবারের নির্বাচনে সেই চেনা দৃশ্য অনুপস্থিত ছিল। ফলে দিনভর উপজেলাজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ ও সাধারণ মানুষের আগ্রহও ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে শুধুমাত্র খেলাফত মজলিস বাংলাদেশ ব্যতীত অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উল্লেখ্য, এর আগে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে সকাল ১১টায় ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী রিটার্নিংকর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি নেতা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কর্নেল (অব:) আজিম উল্লাহ বাহার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের পক্ষে উত্তর জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দরা গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফতে ইসলাম বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইনসানিয়াত বিপ্লব ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও জেলা প্রশাসক বরাবর তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন ফটিকছড়িতে যে নিরবতা ও উৎসাহহীনতা দেখা গেছে, তা বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। এর প্রভাব নেতা কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মাঝেও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন