দুই মাস আগে সংঘর্ষের ঘটনায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন মিয়ার মাথার খুলি শনিবার (১ নভেম্বর) সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মামুন মিয়ার মাথার খুলি অপারেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মু. ইসমাঈল হোসেন। দুই মাস আগে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত মামুন মিয়ার মাথার খুলিটি অপরাশেন করে খুলে রাখা হয়েছিলো। মাথার খুলি খুলে রাখার বিষয়ে তখন কিছু কিছু মিডিয়ায় নেতিবাচক সংবাদ প্রচারিত হলেও ডাঃ ইসমাইল তখন বলেছিলেন, “মাথার খুলি খুলে রেখে পরবর্তীতে প্রতিস্থাপন নতুন কিছু নয়, এখন প্রতিনিয়তই দেশে এ চিকিৎসা বিদ্যমান রয়েছে“।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় চবির অন্তত ৫০০ শিক্ষার্থী আহত হন। গ্রামবাসীর মধ্যেও অনেকে আহত হন। তাঁদের মধ্যে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন মামুন মিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম (২৪)। ওই রাতেই অস্ত্রোপচার করে মামুন মিয়ার মাথার খুলি খুলে রেখে সেখানে লাগিয়ে দেয়া হয়েছিলো “হাড় নেই, মাথায় চাপ দিবেন না“ লেখা একটি চিরকুট, যা দেশবাসীর হৃদয়ে দাগ কেটেছিলো। অপরদিকে মাথায় আঘাতের সাথে সাথে সায়েমের একটি পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনিও সুস্থ। আরও কিছুদিন তাঁকে থেরাপি দিতে হবে।
পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম জানান, মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দুই শিক্ষার্থীকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমত, চিকিৎসকদের আন্তরিকতা এবং হাসপাতালের সর্বোচ্চ সেবায় তারা দুইজনই এখন সুস্থ। মামুনের মাথায় খুলি আমরা প্রতিস্থাপন করেছি। এরপর মামুন স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছেন। এই দুইজনের চিকিৎসাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন।
এই বিষয়ে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মু. ইসমাঈল হোসেন জানান, অপারেশনের দুই মাস পর মামুনের মাথার খুলি প্রতিস্থাপন করা হল। হামলার সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মামুনের মাথার পেছনে ব্রেইনের অংশে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়। অপারেশনের মাধ্যমে তার মাথা থেকে ১৩ টুকরো হাড় বের করা হয়েছিল এবং খুলিটি আলাদা করে রাখা হয়েছিলো। খুলি প্রতিস্থাপনের পর মামুন এখন সুস্থ। আর হামলায় সায়েমের একটি পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তাকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সায়েমও সুস্থ। আরও কিছু দিন তাকে থেরাপি দিতে হবে। দুইজনই এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন বলেও জানান এই চিকিৎসক।