চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আসন্ন নির্বাচনে “ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল“ থেকে অর্ডিনারী গ্রুপের পরিচালক পদপ্রার্থী হয়েছেন রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী। আসন্ন নির্বাচন এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় ওঠে এসেছে অনেক কিছুই। পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
ভোরের দর্পণ : আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন। ভোরের দর্পণ এর পাঠকদের পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম।
আমজাদ চৌধুরী: ওয়াআলাইকুমাস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি। আপনার মাধ্যমে সকল পাঠকদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।
ভোরের দর্পণঃ চেম্বার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো উদ্দেশ্য আছে কি? এবারই কী প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন?
আমজাদ চৌধুরীঃ উদ্দেশ্যতো অবশ্যই আছে, সেটা হলো চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করা। আর এটা আমার প্রথম নির্বাচন নয়, এর আগেও দুই মেয়াদে আমি ২০১৫ সাল পর্যন্ত চেম্বারের পরিচালক ছিলাম। তখনও ভোটাররা আমাকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করিয়ে তাদের পাশে দাড়ানোর সুযোগ দিয়েছিলো।
ভোরের দর্পণঃ আপনি ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি আর কোন কোন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন?
আমজাদ চৌধুরীঃ আমি ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ট্রেডবডি ও সামাজিক সেবামূলক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছি। ইতোমধ্যে আমি বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কসপ ওনার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি হিসেবে একাধিকবার দায়িত্বপালন করেছি এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তাছাড়া বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং এন্ড রিসাইক্লার্স এসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেডবডির সাথেও আমি সরাসরি সংশ্লিষ্ট। তাছাড়া লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালসহ নানা সামাজিক সংগঠনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত আছি।
ভোরের দর্পণঃ নির্বাচনে আপনার প্যানেল সম্পর্কে বলুন
আমজাদ চৌধুরীঃ চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং প্যানেল লিডার আমিরুল হকের নেতৃত্বে অর্ডিনারী গ্রুপে ১২জন এবং এসোসিয়েটস গ্রুপে ৬জন মেধাবী, সৎ, সাহসী ও সজ্জন ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমাদের প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এতে নতুন ও পুরাতন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে আমাদের প্যানেলটি গঠন করা হয়েছে। এখানে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দোকানদার পর্যন্ত সব সেক্টরের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। কারণ সবার প্রতিনিধিত্ব থাকায় সকলের সমস্যা নিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারব।
ভোরের দর্পণঃ নির্বাচিত হলে কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিবেন?
আমজাদ চৌধুরীঃ যে কাজ করলে চেম্বারের প্রতি ফের ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরে আসবে সেটিই আগে করব। কোন পয়েন্টে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হয়, কারা এই হয়রানীর সাথে যুক্ত, কেন এমনটি করা হয়-এসব খতিয়ে দেখব আন্তরিকতা নিয়ে। ব্যবসাবান্ধব একটি চেম্বার করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। ব্যবসায়ীদের অধিকার আদায়, ছোট বড় পার্থক্য দূর করে বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি, গণশুনানির মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিতকরণ, দোকান মালিকদের ভ্যাট, ট্যাক্স সমস্যার সমাধান, চট্টগ্রামের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণের বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠই হবে আমাদের প্রথম অঙ্গীকার।
ভোরের দর্পণঃ চেম্বারের উন্নয়নে আপনাদের প্রধান লক্ষ্যসমূহ কী কীঃ?
আমজাদ চৌধুরীঃ আল্লাহ যদি আমাদেরকে কামিয়াব করেন, তাইলে সবাইকে সাথে নিয়ে ব্যবসার স্বার্থ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ, বন্দর ও লজিস্টিক খাতের সাশ্রয় দক্ষ ও আধুনিক সেবা, ক্ষুদ্র মাঝারি ও নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজড চেম্বার গঠন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সামাজিক দায়িত্ব ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে চেম্বারকে সারথী হিসেবে উপস্থাপনই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এরসাথে সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং নিরাপদ বিনিয়োগের পরিবেশ বজায় রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে ইনশাল্লাহ।
ভোরের দর্পণঃ ইতোমধ্যে কী কী সমস্যা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন?
আমজাদ চৌধুরীঃ দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকে বুঝতে পেরেছি, চট্টগ্রাম চেম্বারে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নেই। এখানে মুষ্টিমেয় লোক সিন্ডিকেট করে চেম্বারকে জিম্মি করে রেখেছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে অবস্থিত ওজন স্কেল একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ নিয়ে আছে নানা অসঙ্গতি। বন্দরে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ নিয়েও আছে ছলছাতুরি। আমরা কামিয়াব হলে ইনশাল্লাহ সবাইকে সাথে নিয়ে ওজন স্কেল সরানো, সিন্ডিকেটমুক্ত চেম্বার, বন্দর ট্যারিফ হার বৃদ্ধিরোধ এবং অযৌক্তিকভাবে চেম্বারকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবো।
ভোরের দর্পণঃ আপনাদের প্রতিপক্ষ প্যানেল সম্পর্কে মূল্যায়ন করুন
আমজাদ চৌধুরীঃ তারাও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী। তবে ভোটাররা মূল্যায়ন করবেন, কাকে নির্বাচিত করলে চেম্বারের প্রকৃত নেতৃত্ব ওঠে আসবে। কারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কথা বলতে পারবেন এবং সমাজে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাদের কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা সেটা নির্বাচনেই প্রমাণিত হবে ইনশাল্লাহ।
ভোরের দর্পণঃ আপনি কি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত আছেন ?
আমজাদ চৌধুরীঃ আমি ব্যক্তিগতভাবে এখন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই। তবে ছাত্র জীবনে আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমার ইমিডেয়েট বড় ভাই আসলাম চৌধুরী এফসিএ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত আছেন। তাছাড়া আমার বড়ভাই মরহুম ইসহাক কাদের চৌধুরীও ছিলেন বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা।
ভোরের দর্পণঃ জয় পরাজয় সম্পর্কে কিছু বলুন
আমজাদ চৌধুরীঃ জয় পরাজয় আল্লাহর হাতে। তবে আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি। ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে একযোগে কাজ করে যাব। ব্যবসায়ীদের যেকোন প্রয়োজনে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করবো। ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলব, ভোট কেন্দ্রে আসুন, ভোট দিন। চেম্বারকে অপশাসনের হাত থেকে মুক্ত করুন। সেই সাথে আমার ব্যালট নং-৩৭ এবং পুরো প্যানেলকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য বিনীত আহবান জানাচ্ছি।