চট্টগ্রামে শিশুকে যৌন হেনস্থার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

যৌন হয়রানির ভয় থেকে ট্রমায় থাকা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিপত্তির কারণ তুলে ধরে চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। নিজেদের ছোট্ট শিশু সন্তানকে সাথে নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে পিতার বক্তব্য পুরো হলরুম জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরী করে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট প্রতিবেশী মাদকাসক্ত যুবক ফারুক প্রকাশ ইয়াবা ফারুকের বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল রাইসা (ছদ্মনাম) নামে ছয় বছরের এক শিশু। এরপর থেকেই সে ট্রমায় ভুগছেন। ’

সোমবার চট্টগ্রাম একাডেমী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির মা বলেন, ‘ফারুক ও তার ভাইরা এলাকায় দুধর্ষ সন্ত্রাসী ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের হুমকির কারণে ঘটনার পর থেকেই নগরের কোতোয়ালী থানাধীন আশরাফ আলী সড়কের নিজস্ব বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। মামলা পর্যন্ত করতে সাহস পাইনি। দীর্ঘ এক বছর বুকে চাপা কষ্ট রেখে চলেছি। এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। ’

সংবাদ সম্মেলনে নিপীড়নের শিকার শিশুটি উপস্থিত ছিলেন। সে বলেন, ‘আমাকে ফারুক চাচা চকলেট ও মোবাইল দিবেন বলে তার বাসার দিকে নিয়ে যান। আমাকে সে কুলে তুলে আদর করতে থাকেন। এসময় আমার মা ও লোকজন চিৎকার দিলে সে আমাকে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’ সে অনেকবার আমাকে এভাবে আদর করেন।

শিশুটির দাদা মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘ফারুক একজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্ত। তার দুইভাই ফ্যাসিস্ট যুবলীগের ক্যাডার আরিফ সিকদার মুন্না ও শাকিল। তারা সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের প্রভাবে থানায় মামলা পর্যন্ত করতে পারিনি। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ফারুক ও তার সহোদররা এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল-বেদখল, ইয়াবা ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত। গত বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে তাদের নেতৃত্বে কোতোয়ালীর মোড়, নিউ মার্কেট ও নতুন ব্রিজ এলাকায় ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে যুবলীগ ক্যাডাররা। তাদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে এলাকায় এসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমাদের হুমকি দিচ্ছে। বাড়ি-ঘর তাদের দিয়ে দিতে বলছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।