আনোয়ারায় চার দাবিতে সিইউএফএল-এ শ্রমিকদের বিক্ষোভ

চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করে কারখানা চালু, ‘এক করপোরেশন,এক পে স্কেল’ বাস্তবায়ন,প্রণোদনাসহ নানা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা ঐক্যজোট।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা মিছিল নিয়ে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাধ্যমে শিল্প উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

শ্রমিক নেতা সৈয়দ আসলাম আলীর সভাপতিত্বে ও শ্যামল কান্তি নাথের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম, সহসভাপতি হারুনুর রশীদ, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলম মজুমদার, সিইউএফএল এমপ্লয়িজ ক্লাবের সভাপতি ফরিদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, সিইউএফএল একটি রাষ্ট্রের লাভজনক প্রতিষ্ঠান, কিন্তু গ্যাস সংকটের বাহানায় এই কারখানা মাসের পর মাস বন্ধ রাখা হয়। অথচ পাশের বেসরকারি সারকারখানা কাফকোতে বিরতিহীন গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বিসিআইসি এর অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে এই সারকারখানা আজ হুমকির মুখে। তাই বিসিআইসির অধীন সব টেকনিশিয়ান ও অপারেটরকে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে একই বেতন স্কেলে নিয়ে আসতে হবে। বিসিআইসির পরিচালনা পর্ষদ ও মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, সরকারি স্বায়ত্বশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার জন্য এক পে-স্কেল কিংবা স্বতন্ত্র বেতন স্কেল থাকলেও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিসিআইসি’র প্রতিষ্ঠানসমূহে একই সাথে দুটি ভিন্ন বেতন স্কেল বিরজমান। এ বৈষম্যের কারণে অপারেটর-টেকনিশিয়ানরা বরাবরই সরকারি ঘোষিত নানা প্রণোদনা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

উল্লেখ্য কারখানাটি চালু থাকলে দৈনিক ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়। প্রতি মেট্রিক টন সার ৩৮ হাজার টাকা। সেই হিসাবে কারখানাটিতে দৈনিক ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার সার উৎপাদিত হয়। তবে চলতি বছর ১১ এপ্রিল গ্যাসের অভাবে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
জাহাঙ্গীর আলম ১৪-০৮-২০২৫ ইং