মিরসরাইয়ে দুই প্রবাসীর ঘরে ডাকাতি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাত দল সোনার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। সোমবার রাত দুইটার দিকে উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের দক্ষিণ আজমনগর এলাকায় এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে ডাকাতির শিকার পরিবার দুইটির ঘরে গিয়ে দেখা যায় আসবাবপত্রসহ কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। খোলা পড়ে আছে ভাঙা আলমারি। দুই পরিবারের সদস্যদের চোখেমুখে তখনও আতঙ্কের ছাপ। ডাকাতির খবর শুনে ছুটে এসেছে প্রতিবেশীরা।

ভুক্তভোগী নুরজাহান বেগম বলেন, ‘একই বাড়িতে দুই পাশে পাকা ঘর তুলে আমার তিন ছেলে বসবাস করে। সোমবার রাত ২ টার দিকে বাড়ির পূর্ব পাশে ছোট ও মেজো ছেলের ঘরে হানা দেয় ১৫-২০ জনের ডাকাত দল। মুখে কালো রঙের মুখোশ, গায়ে শর্ট গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট পরা ডাকাতদের হাতে ছুরি, চাপাতি ও রিভলভারসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা আমাকে ও আমার দুই ছেলের বউ বাচ্চাসহ বেড়াতে আসা আমার বোনকে দড়ি আর কাপড় দিয়ে হাতমুখ বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর ঘরের আলমারিসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙ্গে তছনছ করে বিভিন্ন ধরনের দুই ভরি সোনার গহনা, নগদ প্রায় ৮৫ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এরপর বাড়ির পশ্চিম পাশে প্রবাসী বড় ছেলে ওহিদুর রহমানের ঘরে হানা দেয় ডাকাত দল। সেখানে আমার বড় বউ রোজিনা আক্তারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক জোড়া কানের দুল ও নাতির হাতের স্মার্ট ঘড়িসহ আরো কিছু মালামাল নিয়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাত্র দুই মাস আগে আমার প্রবাস ফেরত ছোট ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি। ঘরের নতুন বউয়ের হাতের গলার ও কানের সমস্থ গহনা নিয়ে গেছে ডাকাতরা। পাঁচ বছর আগেও আমাদের বাড়িতে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল।’

এ বিষয়ে হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘সোমবার মধ্যরাতে এলাকার এক বাড়িতে দুই প্রবাসীর ঘরে ডাকাতির বিষয়টি শুনেছি। গ্রামের একপাশে কিছুটা বিচ্ছিন্ন এলাকায় হওয়ায় ওই বাড়িতে আগেও একবার ডাকাতি হয়েছিল।’

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আবদুল হালিম বলেন, ‘হিঙ্গুলী ইউনিয়নের দক্ষিণ আজমনগর এলাকায় ডাকাতির ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। এবিষয়ে কেউ এখনো পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন