কুয়েট ভবনে ঝুলছে তালা

কুয়েটের শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। এসময় বন্ধ ছিলো সকল ক্লাস-পরীক্ষা। এসময় কুয়েট উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় পরে ৭টি ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা।
১৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) দুপুরে শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনসহ সাত একাডেমিক ভবন তালা দেয়। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের চারপাশে অবস্থান নিয়ে আছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিছু শিক্ষার্থীকে আবাসিক হল ছাড়তেও দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জেরে বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাম্পাসের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে, তা স্থ‌গিত ক‌রে বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ মেডিকেল সেন্টার অবরুদ্ধ থাকায় ভার্চুয়ালিভাবে তিনি সিন্ডিকেট সভায় যোগ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার।
মঙ্গলবার কুয়েটে ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। দুপুর থেকে শুরু হওয়া পালটাপালটি ধাওয়া বিকাল পর্যন্ত চলে। এ ঘটনায় অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহতাবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি এবং উপাচার্য, উপউপাচার্য ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১টার মধ্যে দাবি পূরণের আলটিমেটাম দেন তারা।
এদিকে দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান মো. ইয়াহিয়া দাবি করেন, ছাত্রদল কারও ওপর হামলা করেনি।
এছাড়াও ছাত্রদল অভিযোগ করে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে তাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে।
এদিকে দুপুরে কুয়েটের সিন্ডিকেট সভায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম নিশ্চিত করেছেন, হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা, আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (নর্থ) মো. নাজমুল হাসান রাজীব বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়নি এখনও। ক্যাম্পাসের গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আরও পড়ুন