চবিতে ঘুষ কেলেঙ্কারি: নিরাপত্তা প্রধানের ভিডিও ভাইরাল, বরখাস্ত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া ভিডিওতে নগদ টাকা নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়াকে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক জরুরি সিদ্ধান্তে তাকে সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

কী ঘটেছে?

সাম্প্রতিক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে গোলাম কিবরিয়াকে চবি ক্যাম্পাসের অগ্রণী ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন করতে দেখা যায়। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে শোনা যায়, তিনি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিচ্ছেন এবং বাকি টাকা নিয়ে দর-কষাকষি করছেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে

জানা গেছে, ‘জেরিন গ্রুপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি ফরিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে গোলাম কিবরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগে অস্থায়ী চাকরির লোভ দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনাটি তদন্তের জন্য চবি প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, *”ভিডিও প্রমাণসহ অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল আজিমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।”*

 

পূর্ববর্তী রেকর্ড

গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এবার ভিডিও প্রমাণ থাকায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

কী বলছে আইন?

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকরি চলে যাওয়ার পাশাপাশি আদালতের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিও প্রমাণ থাকায় এই মামলায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

পরবর্তী পদক্ষেপ:

– তদন্ত কমিটি ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
– প্রমাণিত হলে গোলাম কিবরিয়াকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে।

আপনার কি মনে হয় ক্যাম্পাসে দুর্নীতি রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? নিচে আপনার মতামত জানান!

আরও পড়ুন