দোহাজারীতে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে ভূতুড়ে নাম-বিভ্রাট: সাইনবোর্ডে ‘আহমদুর’, শিক্ষা বোর্ডের খাতায় ‘আবদুর’!
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দোহাজারী জামিজুরী আহমদুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়’ দীর্ঘ আট দশকের পুরনো ও স্বনামধন্য একটি বিদ্যাপীঠ। বিদ্যালয়টির নাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক অদ্ভুত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন নাম-বিভ্রাট চলে আসছে। মূল ফটক ও একাডেমিক ভবনে প্রতিষ্ঠাতার নাম ঠিক থাকলেও শিক্ষা বোর্ডের নথিপত্র ও শিক্ষার্থীদের সনদে বদলে গেছে সেই নাম! অথচ এমন একটি চরম সংবেদনশীল বিষয় নিরসন বা সংশোধনে কারোই যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আহমদুর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার আলো ছড়াতে তাঁর অসামান্য অবদান ও স্মৃতিকে অমর করে রাখতে বিদ্যাপীঠটির নামকরণ করা হয় তাঁর নামেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ের মূল ফটক এবং একাডেমিক ভবনের সাইনবোর্ডে সুস্পষ্ট ও সঠিকভাবে ‘আহমদুর রহমান’ লেখা রয়েছে।
তবে ক্ষোভ ও পরিতাপের বিষয় হলো- বিদ্যালয়ের মূল ফটক ও একাডেমিক ভবনে প্রতিষ্ঠাতার নাম অক্ষত থাকলেও শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্রে রহস্যজনকভাবে তা বদলে গেছে। বোর্ডের খাতায় তা লেখা হচ্ছে ‘আবদুর রহমান’। কেবল দাপ্তরিক চিঠিপত্রেই নয়, এই বিদ্যাপিঠ থেকে উত্তীর্ণ হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জেএসসি ও এসএসসি সনদেও প্রতিষ্ঠাতার আসল নামের পরিবর্তে ছাপা হচ্ছে এই ভুল নাম। বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থীরা এই ভুল সনদ নিয়েই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে।
বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও মরহুম আহমদুর রহমানের নাতি ওবায়দুল আকবর টুটুল বলেন, “বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতার নাম যেখানে ‘আহমদুর রহমান’, সেখানে শিক্ষা বোর্ডের তালিকায় ও সনদে এই ভূতুড়ে ‘আবদুর রহমান’ নামটি এলো কীভাবে? যুগের পর যুগ চোখের সামনে এমন ঐতিহাসিক ভুল ঘটে চললেও কেন তা সংশোধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলো না? নাম বিকৃতি করে প্রতিষ্ঠাতার অবদানকে খাটো করা হচ্ছে এবং তাঁর অবদানকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। দ্রুত নাম সংশোধন করে ‘আবদুর রহমান’ এর স্থলে সঠিক নাম ‘আহমদুর রহমান’ নামটি প্রতিস্থাপন করার জন্য শিক্ষা বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর সদয় সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর মতে, এটি কেবল একটি বানানের ভুল বা টাইপিংয়ের অসাবধানতা নয়; বরং একজন পরম শ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠাতার ইতিহাস, অবদান ও স্মৃতির প্রতি চরম অবহেলা। শিক্ষা বোর্ডের নথিপত্র এবং শিক্ষার্থীদের সনদে দীর্ঘদিন ধরে চেপে বসা এই নাম-বিভ্রাট দূর করা এখন সময়ের দাবি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঘুম ভাঙবে এবং চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করে নথি ও সনদে ‘আবদুর রহমান’-এর স্থলে সঠিক নাম ‘আহমদুর রহমান’ প্রতিস্থাপনে তাঁরা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাফর আহমদ বলেন, “আমি যোগদানের পর এই নাম বিভ্রাট আমার নজরে আসে। এরপর আমি ম্যানেজিং কমিটি ও বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করি। ইতিমধ্যে আমরা নাম সংশোধনের পদক্ষেপ নিয়েছি। সঠিক নাম প্রতিস্থাপনের জন্য আহমদুর রহমানের প্রামাণ্য কাগজপত্রের জন্য তাঁর পরিবারের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি। তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিঠু চৌধুরী বলেন, ”আগে দেখতে হবে প্রতিষ্ঠানের ভুল নাকি বোর্ডের ভুল। যদি বোর্ডের ভুল হয় তবে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।”