ফারুক দেওয়ান :: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে। দিনটি ছিল পবিত্র লাইলাতুল কদরের পরের দিন জুমাতুল বিদায়ের সন্ধ্যায়। নতুন দলের দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এ উপলক্ষ্যে কমিটির চেয়ারম্যান রমনা রেস্তোরা প্রাঙ্গনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দল গঠনের কারণ, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিত তুলে ধরেন। সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ধৈর্যসহকারে শুনেন ও উত্তর দেন। ১৯৭৮ সালের সে সাংবাদিক সম্মেলন নতুন প্রজন্মের কাছে দালিলিক ইতিহাস। তাই, দৈনিক ইত্তেফাক ২রা সেপ্টেম্বর সে অনুষ্ঠানের যে কভারেজ দিয়েছে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হলো-
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেন, বর্তমান ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় প্রয়োজনের জন্য এই নতুন রাজনৈতিক দল সংগঠিত করা হয়েছে। সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট , মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের বিভিন্ন অংগদলগুলির প্রতিনিধিগণসহ আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেন, বাস্তবিকপক্ষে জাতীয় প্রয়োজনের জন্যই নূতন দল করা হইতেছে। এই দল জাতিকে সুদৃঢ় করিবে এবং দেশ ও জাতিকে আগাইয়া নিয়া যাইবে।
তিনি বলেন, চিন্তা করিয়া দেখিতে হইবে কেন আমরা শত শত বছর ধরিয়া পরাধীন ছিলাম। শত শত বছর ধরিয়া শত শত দল ছিল। সামান্য কারণে তাহাদের মধ্যে মতভেদ বিরাজ করিত। উহার জন্য আমাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব ছিল। ইহার জন্য আমরাই দায়ী এবং এই কারণে শত শত বছর ধরিয়া এই দেশ শোষণ করা হইয়াছে।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা আনিয়াছি। অনেকে তখন মনে করিয়াছেন, এই স্বাধীনতার প্রয়োজন নেই। কিন্তু স্বাধীনতার মাধ্যমেই অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করা সম্ভব। এদেশে বিপুল জাতীয় সম্পদ রহিয়াছে। উহার সদ্ব্যবহার করিলে অল্প সময়ের মধ্যে দেশকে উন্নতির পথে আগাইয়া নিয়া যাওয়া যাইবে। তিনি বলেন, এই বিশ্বাস নিয়াই আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছিলাম। আমি দেখিয়াছি হাজার হাজার নর-নারী দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়াছেন। তাহাদিগকে ভূলিলে চলিবে না, প্রশ্ন করিতে হইবে কেন তাহারা প্রাণ বিসর্জন দিয়াছিলেন।
তিনি বলেন, তাঁদের আস্থা ছিল দেশ স্বাধীন হইবে। সকলে সুখে শান্তিতে জীবন নির্বাহ করিতে পারিবে। তাই, আমাদিগকে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করিতে হইবে যাহাতে দেশ উন্নতির পথে আগাইয়া যাইতে পারে। প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করিতে চাই। এই ব্যাপারে আমরা বিফল হইলে দেশ ও জাতি হিসেবে আমরা ধ্বংসের পথে চলিয়া যাইব।
তিনি বলেন, আমি ৩রা জুনের নির্বাচনের সময় দেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচী দিয়াছিলাম। জনগণ তাহা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করিয়াছে। এই কর্মসূচী বাস্তবায়িত করিতে পারিলে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র বন্ধ হইবে এবং জনগণের ইচ্ছা পূরণ হইবে। তিনি জোর দিয়া বলেন, এদেশে কেবল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদভিত্তিক রাজনীতি হইতে হইবে। গত কয়েক বৎসরে অন্য চেষ্টাও হইয়াছে। কিন্তু জনগণ তাহা গ্রহণ করে নাই। তিনি বলেন, এমন কর্মসূচী গ্রহণ করিতে হইবে যাহাতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হইতে পারে। রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জনগণের কাছে নিয়া যাইতে হইবে।
প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি আমরা উহা করিতে পারি তবে জনগণের মধ্যে উহার শিকড় গাঁথা থাকিবে এবং তাহা হইলে কেউ ব্যক্তিস্বার্থে গণতন্ত্রকে ব্যবহার করিতে পারিবে না। তিনি বলেন, আমরা এমন কর্মসূচী গ্রহণ করিব যাহাতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের দ্রুত উন্নতি হইবে। এই ক্ষেত্রে আমি ১৯ দফা কর্মসূচী উল্লেখ করিতে চাই এবং উহাকে বাস্তবায়িত করিতে চাই। ইতিমধ্যে উহা বেশ কিছুদূর আগাইয়া গিয়াছে। ৩রা জুনের নির্বাচনে জনগণ উহার প্রতি সমর্থন জানাইয়াছিলেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থান সফরকালে আমি দেখিয়াছি জনগণ জাতীয় ঐক্য চান। কারণ বিভক্তি থাকিলে দেশ ও জাতি হিসাবে আমরা শক্তিশালী হইতে পারিব না। এই বিষয়ে আমি রাজনৈতিক বন্ধুদের সহিত আলাপ-আলোচনা করিয়াছি। তাহারাও একদলে অন্তর্ভূক্ত হইয়া জাতীয় জীবনে পরিবর্তন আনিতে চান।
প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেন, তাই আজ বর্তমান ইতিহাসের প্রেক্ষিতে নূতন দল সংগঠিত করা হইতেছে যাহাতে সকল দেশপ্রেমিক ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা যোগ দিতে পারিবে। তাই, আমি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণা করিতেছি। আশা করি সকলে দলে দলে ইহাতে যোগদান করিবেন এবং ইহাকে জনগণভিত্তিক দল হিসাবে শক্তিশালী করিবেন।
প্রেসিডেন্ট দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে নিজের নাম উল্লেখ করেন এবং জানান, কয়েকদিনের মধ্যে সদস্যবৃন্দের নাম ঘোষণা করা হইবে।
তিনি জানান, দলের ১১ সদস্যের একটি স্থায়ী জাতীয় কাউন্সিল ও জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি থাকিবে এবং সর্বনিম্ন ১৫০ সদস্যের দলীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল ও ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি থাকিবে। সম্মেলনে দলের মুদ্রিত ঘোষণাপত্র বিতরণ করা হয় কিন্তু গঠনতন্ত্র দেওয়া হয় নাই।
এ সময়ে দলের চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে প্রচুর প্রশ্ন করা হয়। তিনি ধৈর্য সহকারে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রঃ বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের জন্য আপনার প্রেরণায় জাগদল সৃষ্টি হয়। এখন নতুন দল করিলেন কেন?
উত্তরঃ ৩রা জুনের নির্বাচনের পর অনেক চিন্তা-ভাবনার পর আমরা মনে করি নূতন দল গঠন করা দরকার এবং ইহার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য আরও সৃদৃঢ় হইবে।
প্রঃ ন্যাশনালিস্ট পার্টি ডান ও বাম উভয়পন্থী হইতে পারে। আপনার জাতীয়তাবাদী দলকে কোন পন্থী বলা যায়?
উত্তরঃ ডানপন্থী ও বামপন্থী যাহারা আছেন তাহারাই ইহার ব্যাখ্যা দিতে পারেন।
প্রঃ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান হিসেবে শান্তিবাহিনী চুক্তি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
উঃ গত দুই মাস যাবৎ অনেকেই অনেক ব্যাখ্যা দিয়াছেন। ইহা মার্কিন কারিগরি সহযোগিতার অন্তর্ভূক্ত । ইহার মাধ্যমে কিছু টেকনিশিয়ান আসিবেন এবং তাহাদের কাজ যদি আমাদের স্বার্থের বিরোধী হয়, তখন আমরা চিন্তা করিব।
প্রঃ বিগত আমলে সোভিয়েট ইউনিয়নের সহিত চুক্তি করার যে দোষে শেখ মুজিবুর রহমানকে দোষারোপ করা হইয়াছিল শান্তিবাহিনী চুক্তি ব্যাপারেও কি একই দোষে দোষারোপ করা যায় না?
উঃ আমি আগেই বলিয়াছি ইহা পরিস্কার একটি কারিগরি চুক্তি।
প্রঃ আপনার দলে কাহারা আছেন?
উঃ ফ্রন্টে যাহারা আছেন তাহাতো জানেনই। ইহা ছাড়াও ছোট গ্রুপ বা ব্যক্তিগত আলাপ আলোচনা চলিতেছে। তবে এসব আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেখিতে পারিবেন।
প্রঃ আপনার নূতন দল কি পিপিআর অনুযায়ী অনুমতি পাইয়াছে?
উঃ পাওয়া গিয়াছে।
প্রঃ আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশে এখনো আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের প্রভাব আছে?
উঃ আছে। তবে আমরা ঐক্যবদ্ধ না হইলে ইহা বাহির হইতে আরও জোরদার হইবে।
প্রঃ আপনার নূতন দলের মধ্যে আপনি কি চান দেশে একটাই দল থাকিবে?
উঃ আমরা একাধিক দল চাই। গণতন্ত্র করিতে হইলে দেশে একাধিক দল থাকিতে হইবে। তবে ইহা মনে রাখিতে হইবে যে, বেশি দল হইলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।
প্রঃ নূতন দল করার প্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার রদবদল হইবে কি?
উঃ এখন কোন চিন্তা-ভাবনা নাই।
প্রঃ নূতন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে সামরিক আইন প্রত্যাহার সম্পর্কে আপনার মত কি?
উঃ এ ব্যাপারে আগেও বক্তব্য রাখিয়াছি। এখনো বলিতেছি পর্যায়ক্রমে তুলিয়া নিব।
প্রঃ বাকশালীদের আপনার দলে নিবেন কি?
উঃ না।
প্রঃ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে আপনার মত কি?
উঃ ক্রমান্বয়ে দেওয়া হইতেছে।
প্রঃ আপনার বিরোদ্ধে অভিযোগ সেনাবাহিনীর একজন নিয়মিত সদস্য হিসেবে আপনি সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে টানিয়া আনিতেছেন?
উঃ আমি আর্ম ফোর্সের কমান্ডার ইন চীফ। আগে চীফ অব স্টাফ ছিলাম এবং উহা এখন নাই। তাই এ ধরনের চিন্তাধারা কাহারও থাকা উচিত নহে।
প্রঃ অভিযোগ রহিয়াছে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাইতেছে। আপনি একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান হিসাবে ইহা স্বীকার করেন কি?
উঃ কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়াছে সত্য এবং উহার ব্যবস্থা করিতেছি। আমি আশা করি, আপনারা আমাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করিবেন।
প্রঃ রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসাবে রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
উঃ দুই বছরে দশ থেকে বার হাজার রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছে এবং আরও দেওয়া হইতেছে। যাহাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নাই, তাহাদিগকে ছাড়িয়া দেওয়া হইবে।
প্রঃ সামরিক আদালতে সাজাপ্রাপ্তদের উচ্চ আদালতে আপিল করার যে দাবী উঠিয়াছে সে ব্যাপারে আপনার মত কি?
উঃ আমাদের নিকট কথাটা আসিয়াছে। আমরা চিন্তা করিতেছি।
প্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের ধর্মঘটের ব্যাপারে জনৈক মন্ত্রী যে বিবৃতি দয়িাছেন, ইহাই কি শেষ কথা! এবং কর্মচারীদের পরিবারবর্গকে যেভাবে উচ্ছেদ করা হইয়াছে, অনেকে ইহাকে অমানবিক বরিয়াছেন। আপনিও অমানবিক বলিবেন?
উঃ এ ব্যাপারে তদন্ত করা হইতেছে।
প্রঃ ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যেসব মুক্তিযোদ্ধা দেশের অভ্যন্তরে অপারেশন চালাইয়াছিল, তাহাদের অনেকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হইতেছে। আপনি জানেন কি?
উঃ এ রকম দু’একটি খবর আসিয়াছে। এ বিষয়ে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিতেছি এবং ইতিমধ্যে কিছু কিছু ছাড়িয়াও দিয়াছি।
প্রঃ আপনার একজন মন্ত্রী বাকশালী আমলের হিসাব-নিকাশ, বিচার ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় হইতে তাহাদের অপসারণ – এই তিনটি দাবী করিয়াছেন। আপনার মত কি?
উঃ গত ৩রা জুনের নির্বাচনে ইহা জনগণের দাবী ছিল এবং ইহা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলিতেছে।
প্রঃ পার্লামেন্ট নির্বাচন ডিসেম্বরে হওয়ার কথা বলিয়াছেন। নির্দিষ্ট কোন তারিখ দিবেন কি?
উঃ ইনশাল্লাহ ডিসেম্বরেই হইবে। তবে তারিখ সম্পর্কে চিন্তা করা হইতেছে।
প্রঃ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভাঙ্গা-গড়া চলিতেছে। সে ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
উঃ কোন কোন দল ৪ ভাগও হইয়াছে। তবে এ ব্যাপারে আমাদের কোন মন্তব্য নাই।
প্রঃ আপনি প্রথম রাজনৈতিক দলে যোগদান করিলেন। অন্যান্য রাজনৈতিক সহযোগীদের প্রতি আপনার কোন বাণী দিবেন কি?
উঃ আসুন, আমরা সকলে দেশের উন্নতি সাধনে একত্রিত হই।
প্রঃ জননেতাদের সম্পত্তির হিসাব পাইয়াছেন কি?
উঃ প্রায় সবই পাইয়াছি এবং পরীক্ষা করিয়া দেখা হইতেছে।
প্রঃ কোন কোন সরকারী আমলাও নাকি বেআইনিভাবে সম্পত্তি করিয়াছে। সে ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ আছে কি?
উঃ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হইবে।
প্রঃ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে জানেন কি?
উঃ একেত রমজান। তদুপরি বেতন বাড়ার ফলে মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়া গিয়াছে। আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতেছি।
প্রঃ মূল্যস্ফীতির ব্যাপারে বিদেশী সাহায্য দায়ী কিনা?
উঃ অনেকাংশে দায়ী। তবে বিদেশী সাহায্য ছাড়াও চলে না।
প্রঃ সুষ্ঠু শ্রমনীতির কথা বলিয়াছেন। এখন কোন শ্রমনীতি নাই।
উঃ সঠিক শ্রমনীতি নাই।
প্রঃ আপনার দলের কনভেনশন কবে হইবে?
উঃ সময় লাগিবে।
প্রঃ আপনার সঙ্গে ঐক্যের ব্যাপারে জনাব মিজানুর রহমান চৌধুরীর সাথে কোন আলাপ হইয়াছে কি?
উঃ না, কোন আলাপ হয় নাই।
প্রঃ বর্মী শরণার্থীদের হিসাবে ১৯ হাজার ঘাটতি দেখা যায়। কারণ কি?
উঃ হয়তো কোথাও হিসাবে ভূল হইয়াছে।
প্রঃ বাংলাদেশ-বার্মা চুক্তি প্রকাশের দাবী সম্পর্কে আপনার মত কি? বার্মাকে নাকি বাংলাদেশের কিছু জায়গা ছাড়িয়া দেওয়া হইয়াছে?
উঃ শরণার্থীরা দেশে ফিরিয়া যাইতে শুরু করিয়াছে। জায়গা ছাড়িয়া দেওয়ার কথা সঠিক নহে।
প্রঃ পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর যদি সেখানে পার্লামেন্টারী শাসন ব্যবস্থার পক্ষে রায় দেওয়া হয় তাহা হইলে আপনি কি করিবেন?
উঃ সার্বভৌম আইন পরিষদের ব্যাখ্যা দিয়াছি। আইন অনুযায়ী তাহারা সিদ্ধান্ত নিবেন। দেশের আইন অনুসারে আমি সেই সিদ্ধান্ত মানিয়া নিব।
প্রঃ আপনার দল কোন নির্বাচনী আঁতাত করিবে কি?
উঃ আমার দল এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিবে।
প্রঃ ভারত কর্তৃক ফারাক্কার পানি ছাড়িয়া দেওয়াই কি উত্তর বঙ্গের বন্যার কারণ?
উঃ ভারতের উত্তরাঞ্চলে প্রবল বন্যা ও বৃষ্টি হইয়াছে। সেই পানি এদেশে আসিয়াছে।
প্রঃ আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানী বাহিনীর যেসব অস্ত্র ভারত নিয়া গিয়াছে, উহা ফেরত আনা সম্পর্কে আপনি কিছু বলিবেন কি?
উঃ অতীতে ভারত হইতে কিছু অস্ত্রশস্ত্র ফিরিয়া পাইয়াছি। তাহা ছাড়া পাকিস্তানীদের হাত হইতেও আমরা কিছু অস্ত্র নিয়াছিলাম।
প্রঃ দলের নাম হইতে গণতন্ত্র শব্দটি তুলিয়া নিয়া নূতন দল করিলেন কেন?
উঃ নূতন দল বলিয়া নূতন নাম। অতীতে মুষ্টিমেয় লোকের মধ্যে শহরভিত্তিক গণতন্ত্র ছিল। আমরা গণতন্ত্রকে গ্রামে লইয়া যাইতেছি যাহাতে কেহ উহা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করিতে না পারে।
প্রঃ সরকারী পর্যায়ে বাংলা ভাষা অবহেলিত কেন?
উঃ আগামী কয়েক বৎসরের মধ্যে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হইবে।
প্রঃ ভারত ও পাকিস্তানে বিদেশী সামরিক সাহায্যের প্রেক্ষিতে আমাদের মত ক্ষুদ্র দেশের অবস্থা কি দাঁড়াইবে?
উঃ গত দুই-তিন বৎসরে সেনাবাহিনীকে পূনর্গঠনের ব্যবস্থা করিয়াছে। আগের মত আমরা দুর্বল নহি। বিভিন্ন বাহিনীকে সুষ্ঠুভাবে গড়িয়া তুলিতে পারিব।
প্রঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলযোগ সম্পর্কে মন্তব্য কি?
উঃ কিছু অছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির জন্য দায়ী। সে সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইতেছে।
প্রঃ আপনার দলেও দেখা যায় ছাত্রফন্ট আছে।
উঃ শিক্ষা প্রাঙ্গনে রাজনীতি শিক্ষার পর্যায়ে রাখা উচিত। যাহারা টাকা-পয়সা দিয়া ছাত্রদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করিতেছে তাহারা ক্ষতি করিতেছে।
প্রঃ আপনার জনৈক মন্ত্রী বরিয়াছেন, শুধু গম ও চালের মূল্য বৃদ্ধি পাইলে এ সরকার দায়ী, অন্য দ্রব্যের জন্য নহে। সরকার প্রধান হিসাবে আপনারও কি একই মত?
উঃ দাম বাড়ার ব্যাপারে আমাদের দায়িত্ব আছে। আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতেছি। আপনারা সাহায্য করিবেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এই বক্তব্য ও প্রশ্নোত্তরে দেশের নতুন প্রজন্ম মৌলিক অনেক কিছু জানতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট, ঢাকা।