ইনানী সৈকতে দোকান বসিয়ে অবৈধ সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে বছরে কোটি টাকা


১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:২৮ : পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ৩একর সরকারি খাস জায়গার উপর ৫৩টি দোকান নির্মাণ করে প্রতি বৎসর অর্ধকোটির টাকার বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সরকারি ইজারা না হলেও দোকান প্রতি বৎসরে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে ওই সিন্ডিকেট সদস্যরা। যার ফলে সরকার বৎসরের পর বৎসর বিশাল অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কি:মি: দূরে কোরাল পাথুরের ইনানী সী-বীচ। এই বীচে নামার রাস্তায় উভয় পার্শ্বে অর্ধশতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। দোকানগুলোতে পর্যটকদের ভিড় ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন পণ্যের সমাহার লক্ষ্য করা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যস্ততম ইনানী বীচের নিচের দিকে গাড়ী পার্কিংয়ের জন্য ২২ লক্ষ টাকায় ইজারা হয়েছে। তবে ৫৩টি দোকান এখনো খাস কালেকশন কিংবা ইজারার আওতায় আসেনি। অথচ সিন্ডিকেট সদস্যরা এসব দোকান ভাড়া, উপ-ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এদের মধ্যে ছোট ইনানীর মোহাম্মদ হোছনের ছেলে নাজির হোছনের ৫টি দোকান, তার পরিবারের অপরাপর সদস্যরা ৫টি, ছৈয়দ কাশেমের ছেলে ও বিএমসি সদস্য মো: বেলাল-৩টি, শাহ আলমের ছেলে শাহ জাহান ২টি, মোহাম্মদ হোছনের ছেলে আজিজ উল্লাহ, মৃত জাফরের ছেলে আজিম আলীসহ অনেকে এভাবে দোকানের মালিক বনে গেছে।

এছাড়াও সম্প্রতি পুলিশ বক্সের পশ্চিম পার্শ্বে মো: বশির ও মাহমুদুল হক রাতের আঁধারে দোকান নির্মাণ করেছে।

এ ব্যাপারে ইনানী সী-বীচ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি নাজির হোছন বলেন, এটা সরকারি জায়গা। বীচে গাড়ী পার্কিং ইজারা হয়েছে। ৫৩টি দোকান ইজারার আওতায় আসেনি। সরকারি ভাবে দোকান নির্মাণ করে চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় কিংবা ইজারা দিলে প্রতি বৎসর বিশাল অংকের রাজস্ব পাবে।আমার ১টি দোকান রয়েছে। পরিবারের অপরাপর সদস্যদের নামেও ১টি করে দোকান রয়েছে।

বিএমসি সদস্য মো: বেলাল বলেন, ইনানী বীচে বাঁশ-গাছের তৈরি যে দোকান গুলো রয়েছে সেখানে আমার নামে কোন দোকান নেই। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ছৈয়দ হোসাইন নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রীট করায় দোকান গুলো সরকারি ভাবে নির্মাণ করা হয়নি। ইজারা কিংবা খাস কালেকশনও হচ্ছে না। ইতিপূর্বে প্রশাসন দোকান গুলো ভেঙ্গে দিয়েছিল। যা পরে আবারো বাঁশ-গাছ তৈরি করেছে। বিস্তারিত জানার জন্য ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করুন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সদস্য নয়। তাছাড়া ইনানী সী-বীচে কোন স্থাপনা করা যাবে না মর্মে একটি রুল জারি আছে। দোকান গুলো থেকে খাস কালেকশন করা হয় না।

Print Friendly, PDF & Email

ট্যাগ :

আরো সংবাদ


বাংলা English
%d bloggers like this: