ডিসি-ইউএনও’র নাম ভাঙ্গিয়ে লোহাগাড়ায় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ


১৪ অক্টোবর, ২০২১ ৫:৫০ : অপরাহ্ণ

লোহাগাড়ায় কথিত মাদকবিরোধী প্রচারণা ও মানবিকতাকে পুঁজি করে সুলভ মূল্যে স্টিকার বিক্রির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিসি ও ইউএনও অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিভা এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ফ্রিডম ইন্টান্যাশনাল এন্টি এলকোহল নামে একটি বেসরকারী সংস্থার বিরোদ্ধে এ অভিযোগ ওঠেছে।

জানা গেছে, লোহাগাড়ায় ১০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩১ হাজার, ২৪টি মাধ্যমিক ও ৪টি নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৬ হাজার ৫শ ৭০ জন, ১৬টি মাদ্রাসায় ২০ হাজার ও ৪২টি কিন্ডারগার্টেন প্রায় ৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কথিত মাদকবিরোধী সংস্থার প্রতিনিধিরা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত বছর মার্চ মাসে প্রায় ৫০ হাজার লিপলেট ও ২৫ হাজার স্টিকার উপজেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে সূলভ মূল্যে বিতরণ করা হয়। প্রতিটি স্টিকার ও লিপলেটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০ টাকা। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এতোদিন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা টাকা নিতে পারেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরপরই ‘ডিসি অফিস থেকে বলছি’ বলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ফোন দেওয়া শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে সংস্থাটির দুইজন প্রতিনিধি বসে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ‘ইউএনও অফিস থেকে’ বলছি বলে ফোন দেয় এবং বিকাল তিনটার মধ্যে স্টিকার ও লিপলেটের টাকা জমা দিতে কড়া ভাষায় নির্দেশ দেন। পদুয়া আইনুল উলুম দারুচ্ছুন্না মাদ্রাসা থেকে ২ হাজার, আধুনগর কামিল মাদ্রাসা থেকে ৮ হাজার, চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১ হাজার টাকা, সুখছড়ি রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে ১ হাজার, কলাউজান শাহ রশিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২ হাজার টাকা, ভবানীপুর সরকারী প্রাথমিকক বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার টাকা স্টিকার বাবদ আদায় করে। এভাবে করোনায় বিপর্যস্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জোর পূর্বক স্টিকার ও লিপলেটের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সংস্থাটির প্রতিনিধিরা। টাকা আদায় করার জন্য সংস্থাটির নির্দিষ্ট কোন রশিদপত্র নাই। টাকা গ্রহণ করার হাতে লিখা কিছু রশিদ দিয়ে কোনমতে বুঝ দেয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিদের। বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক বলেন, গত বছর মার্চে সংস্থাটি ১০০ স্টিকার দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার হঠাৎ একজন ‘ইউএনও অফিস বলছি’ বলে ফোন দেয়। তিনটার মধ্যে স্টিকারের টাকা অফিসে জমা দিতে বলে নির্দেশ দেন। স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। একবছর আগে দেওয়া এসব স্টিকার কোথায় রেখেছি মনে নাই। শেষে বাধ্য হয়ে নিজের পকেট থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ফোন দিয়ে স্টিকারের ৫ হাজার টাকা নিয়ে ইউএনও অফিসে যেতে বলে। মাদ্রাসার একজনকে দিয়ে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান হাবিব জিতুর মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংস্থাটির কো-অর্ডিনেটর মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, তার মাদকবিরোধী ও মানবিক সংস্থাটির কার্যক্রম সারাদেশে আছে। লোহাগাড়ায় ৫০ হাজার লিপলেট ও ২৫ হাজার স্টিকার সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। লিপলেট ও স্টিকার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ মাদকাসক্ত পুনঃবাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ব্যয় করা হবে। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তার প্রতিনিধিরা ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিসের নাম দিয়ে ফোন করার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, এসব ভূয়া। তাদের সাথে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই।

Print Friendly, PDF & Email

ট্যাগ :

আরো সংবাদ


বাংলা English
%d bloggers like this: